বাঙালি কত প্রকার? খাঁটি ও বদ বাঙালির পরিচয়
বাঙালি কত প্রকার? খাঁটি ও বদ বাঙালির পরিচয়

বাঙালি কত প্রকার? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা প্রায়ই খাঁটি বাঙালি এবং বদ বাঙালি—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ি। মনে প্রাণে খাঁটি বাঙালি বাংলা সাহিত্য অভিধানে গর্বের বিষয়। সাহিত্যে বাঙালি তাদের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। ধরে নিতে পারি, খাঁটি বাঙালি মানে পৃথিবী সমাজের কাছে গর্বের আর্য সন্তানসম সমীহ করার মতো জ্ঞানী। এক কথায়, একজন খাঁটি বাঙালি হবেন মনে প্রাণে সৎ, শুমারি শুনানি আদর্শ সন্তান।

সৎ বাঙালি কেন বদ বাঙালি এড়িয়ে চলেন?

সৎ বাঙালি নিজেরা নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে বদ বাঙালির ধারে কাছেও থাকতে চান না। এর একাধিক কারণ রয়েছে। কী প্রকারে মান-সম্মান-ইজ্জত নিয়ে বীর বাঙালি বদ বাঙালি এড়িয়ে বিশ্ব সংসারে বাঁচতে চান; নিজেরা বেঁচে নিজেদের পরিবার-পরিজন বাঁচাতে চান, তা নেক নজরে রেখে এক নজরে দেখা যাক।

বদ বাঙালি মানসিকতার উৎপত্তি

এখন আসি দীর্ঘ সময়ের বদ বাঙালি কথায়। সৎ বাঙালিয়ানা এড়িয়ে এই বদ বাঙালিয়ানা ছিল এবং আছে রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনায় কোনায়। আছে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মিশ্র মিশেল ধারায়। আছে বুদ্ধিতন্ত্রে। ছিল এবং আছে মিলিটারি, প্যারামিলিটারি, বেসামরিক আমলা, গোয়েন্দা, বুদ্ধিজীবি, পুলিশ হয়ে রাজনীতি, সমাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ঠাসাঠাসি ধারায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই নিয়ে—কে এলো কে গেলো—বলে বদ বাঙালি সমাজের অজানা বাদ্যযন্ত্রে বেসুরো কোরাস গান গাইছেন অজানা শিল্পীরা হরদম। এই বদ বাঙালি শিল্পী সমাজ কিন্তু এক দিনে গড়ে ওঠেনি। বদ বাঙালি মানসিকতা নিয়ে এই জনপদে নিজ ও নিজের পরিবার এবং সমাজের দ্বিমুখী নীতি, স্ববিরোধী আচরণ এবং নিজেদের আদর্শিক দেউলিয়াত্বকে তারা তীব্রভাবে উপভোগ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বদ বাঙালির বৈশিষ্ট্য

বদ বাঙালির ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে কোনো মিল নেই। তাদের ব্যক্তিজীবনে খরার ফুটিফাটা নেই, আবার বসন্তের আনন্দও নেই। তারা থাকেন নিরপেক্ষ সুবিধাবাদী। উপভোগেও থাকেন তারা আনন্দ-নিরানন্দের মধ্যস্বত্বভোগী।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, বদ বাঙালি চরিত্রের সুবিধাবাদী মানসিকতা—যেখানে নিজের স্বার্থ ও ভোগের জন্য ধর্ম, আধুনিকতা এবং সংস্কৃতিকে সুবিধামতো ব্যবহার করা হয়। তাদের সেই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চপেটাঘাত করেও লেখকরা দলে দলে সদলবলে হয়েছেন ব্যর্থ।

বদ বাঙালিকে বাগে আনতে পারেনি কেউ। তাদের দুষ্কর্মে গালি দিলে কিংবা পেটানো হলে তারা বলেন—এই তো যৎসামান্য। সে কারণে বদ বাঙালি সমাজে খুন ও খুনিরা থেকেছেন—চিরায়ত অপরিহার্য সম্পূর্ণ। বদ বাঙালি সমাজে নারীর ইজ্জত-সম্মান তুচ্ছতাচ্ছিল্য। সে কারণে চোর, ডাকাত, প্রতারক, মিথ্যাচার দলের কাছেও ধর্ষণ ধরা হয়েছে বাজি ধরা ঘোড়া অপমানে সেরাটা অব্যর্থ।

বাঙালিকে দু'ভাগে ভাগ করার সময়

বাঙালিকে দু'ভাগে ভাগ করার সময় এসে গেছে। বৈশ্বিক রাজনীতি, সমাজনীতি, ভূরাজনৈতিক ঘটনার নোংরা খেলায় মানুষ নিজেরা নিজেদের থেকে ইতিমধ্যে প্রকাশিত-অপ্রকাশিত প্রকারে দু'ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন। একদিন যেমনটা নানান দেশে কিংবা মানুষ পরিচয়ে তুলে ধরা হয় কিংবা হচ্ছে, হয়তো হবে কোনো একদিন: ১. মানব বনাম পশু মানব, ২. বদ বাঙালি বনাম খাঁটি বাঙালি—শুমারি সেরে।

পশু মানব, পশু দেশের মানুষ হবেন, লজিক্যাল ফ্যালাসিতে—অবিশ্বাসী ও চরম বিপজ্জনক। এরই মধ্যে পশু দেশ মানব বলে তাদের বিশ্বাস করেন না তেমন কেউ। সাবধান! সামরিক, বেসামরিক, সার্বিক গোয়েন্দা গোপন বাঙালি। খাঁটি বাংলা বাঙালি সমাজে ফ্রেন্ডলি কিংবা বারেক ভুলের সুযোগ নেই। সুযোগ নেই মুখোশ, বদ বাঙালিয়ানা কিংবা জাতীয় প্রতারণা কোনো কিছুই।

লেখক: রাজীব কুমার দাশ, কথাসাহিত্যিক। মেইল: rajibkumarvandari800@gmail.com