কনের পোষা কুকুরের কারণে বিয়েবাড়িতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পরে নাটকীয় মোড়
কুকুরের কারণে বিয়েবাড়িতে সংঘর্ষ, নাটকীয় মোড়

কনের পোষা কুকুরের কারণে বিয়েবাড়িতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পরে নাটকীয় মোড়

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুরে একটি বিয়েবাড়ি আনন্দের পরিবর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কনের পোষা কুকুরকে কেন্দ্র করে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়, যার ফলে অন্তত আটজন আহত হন। তবে ঘটনার নাটকীয়তা সেখানেই শেষ হয়নি, বিয়ে বাতিলের পরও কনে তানিয়া কেশরওয়ানি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজির হয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেন।

কুকুরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত

বরের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, অনুষ্ঠান চলাকালীন ভোর ৪টার দিকে গয়না বিনিময়ের রীতির সময় কনেপক্ষের পোষা কুকুরটি হঠাৎ আক্রমণাত্মকভাবে ঘেউ ঘেউ শুরু করে। এই অবস্থায় বরপক্ষের এক যুবক প্রাণীটিকে আঘাত করেন, যা কনেপক্ষের আত্মীয়দের ক্ষুব্ধ করে তোলে। মুহূর্তেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে হাতাহাতি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

লাঠি-চেয়ারে সংঘর্ষ ও আহতদের হাসপাতালে ভর্তি

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সংঘর্ষে উভয় পক্ষ লাঠি ও চেয়ার ব্যবহার করে, যার ফলে নারীসহ অন্তত আটজন গুরুতরভাবে আহত হন। বিশেষ করে কনেপক্ষের তিনজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে উভয় পক্ষ স্থানীয় খাগা থানায় পৌঁছলে, বিয়েটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়।

পালিয়ে বিয়ে ও পরিবারের সমঝোতা

এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে একটি প্রেমকাহিনী। প্রয়াত সুনীল কুমার ও সরোজ গুপ্তার মেয়ে তানিয়া কেশরওয়ানি এবং প্রয়াত রাকেশ চন্দ ও বাবলি দেবীর ছেলে সুমিত গত জানুয়ারিতে কানপুর থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে দুই পরিবারের আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতা হয় এবং ফতেহপুরে ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন করা হয়, যা এই সংঘর্ষের কারণে ব্যর্থ হয়।

কনের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ও ভিডিও বার্তা

বিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করে তানিয়া নিজের পরিবারের সঙ্গে তর্কের পর প্রয়াগরাজের বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পাঁচ দিন পর তিনি একাই শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজির হন। শুরুতে তাকে ফিরে যেতে বলা হলেও, তিনি স্বামীর সঙ্গে একটি ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। ভিডিওতে তানিয়া স্পষ্টভাবে জানান, তাদের বিয়ে গত জানুয়ারিতেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানটি ছিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা, যা পরিবারগুলোর মধ্যে সমঝোতার অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছিল।

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকে পোষা প্রাণী নিয়ে সতর্কতা ও পারিবারিক বিবাদ নিষ্পত্তির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সূত্র হিসেবে এনডিটিভির প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভারতের উত্তরপ্রদেশের এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে।