হেলিকপ্টারে চড়ে প্রেমিকের বাড়িতে চীনা তরুণী, হিন্দু রীতিতে বিয়ে
সিলেটের রাজনগর উপজেলার একটি গ্রামে হেলিকপ্টারে করে চীনা তরুণীকে নিয়ে এসেছেন তার বাংলাদেশি প্রেমিক। এই দম্পতি এখন হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে বিয়ের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
ব্যবসার সূত্রে প্রেম, চীনে বিয়ে
তরুণ ব্যবসায়ী সুকান্ত কুমার সেন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর শেষে প্রায় আট বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে যান। সেখানে সাংহাই মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি কিছুদিন চাকরি করেন। তবে চাকরিতে মন না টিকায় তিনি আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসার মাধ্যমেই তার পরিচয় হয় চীনের সাংহাই প্রদেশের ক্রিস হোয়ের সঙ্গে। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক, যা শেষ পর্যন্ত বিয়েতে রূপ নেয়।
সুকান্ত সেন সাংবাদিকদের জানান, তারা ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে আইনগতভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যবসার সূত্রে প্রথম দেখা থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক দ্রুত গভীর হয়। এরপর উভয় পরিবারের কাছে প্রস্তাব করা হলে দুই পক্ষই এই সম্পর্কে তাদের সম্মতি প্রদান করে। ক্রিস হোয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন, এবং তার আগ্রহ ও সম্মতিতেই হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
হেলিকপ্টারে করে গ্রামে আগমন
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সুকান্ত সেন হেলিকপ্টারে করে তার চীনা প্রেমিকা ক্রিস হোয়েকে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে নিয়ে আসেন। সুকান্ত গ্রামের প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানী সেনের ছেলে। চীনা নববধূর আগমনের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন সুকান্তের বাড়িতে। অনেকেই বিদেশি নববধূকে দেখতে ও তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন, যা এলাকায় একটি বিরল ও আনন্দদায়ক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিবার ও এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ
সুকান্তের ছোট বোন ঐশী সেন, যিনি বর্তমানে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, তিনি জানান যে ক্রিস হোয়ের বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর আগ্রহ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি এই বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করতেন। পরিবারের সদস্যরাও ক্রিস হোয়ের আন্তরিকতা ও সৌজন্যে অত্যন্ত সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চীনে বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন হলেও বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে সেন পরিবারের বাড়িতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার ক্রিস হোয়ের বাবা ও চাচাও বাংলাদেশে এসে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। ভিনদেশি নববধূকে ঘিরে পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে এক অনন্য অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রেমকাহিনীই নয়, বরং এটি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন যে এই বিয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবে এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে শক্তিশালী করবে।
