ডিভোর্সি নারী বিয়ে করা কি ভুল? ইসলাম কী বলে?
ডিভোর্সি নারী বিয়ে করা কি ভুল? ইসলামের বক্তব্য

সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে এক ব্যক্তি শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, 'আমি একজন তালাকপ্রাপ্ত নারীকে বিয়ে করেছি। আমার পরিবার এটা মেনে নেয়নি। এলাকার মানুষ আমাকে ও আমার স্ত্রীকে নানা বাজে কথা শোনায়। ডিভোর্সি নারী বিয়ে করে কি আমি ভুল করেছি? ইসলাম এ ব্যাপারে কী বলে?'

শায়খ আহমাদুল্লাহর উত্তর

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, 'ডিভোর্সি বা বিধবা নারীকে বিয়ে করার কারণে পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে বাজে কথা শুনতে হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সমাজে অনেক নামাজী বা মুসলমান দাবি করার মানুষের মধ্যেও এমন দুশ্চরিত্র মানসিকতা দেখা যায়। একজন যুবক কোনো ডিভোর্সি বা বিধবা নারীকে বিয়ে করলে তিনি অত্যন্ত ভালো একটি কাজ করেছেন।'

সমাজের কুসংস্কার

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের সমাজের অবস্থা এমন যে, ডিভোর্সি নারীদের দেখলে মানুষ ফিসফিস করে, কটূ কথা শোনায়। মনে করে যে, তার নিজেরই সমস্যা ছিল, না হলে কেন তালাক হলো? কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদ কি শুধু স্ত্রীর দোষেই হয়? স্বামীর দোষে হয় না? বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের কারণে নারীরা তালাক নিতে বাধ্য হন। তালাকের পর এমন মাজলুম নারীর মন ভাঙা থাকে। এর ওপর সমাজের মানুষ যদি তাকে হেয় করে, তাহলে ওই অত্যাচারিত অন্তরের দীর্ঘশ্বাস ও আহাজারি আপনাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভালো কাজে বাধা

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, 'আমাদের সমাজে ভালো কাজ করলে বেশি বাধা আসে, অথচ খারাপ কাজে কেউ তেমন বাধা দেয় না। একজন নারী যার স্বামী মারা গেছেন বা ডিভোর্স হয়েছে এবং যার সন্তান আছে, তিনি যদি নিজের চরিত্র হেফাজত করা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রয়োজনে অন্যত্র বিয়ে করেন, তাহলে সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত তাকে স্যালুট জানানো এবং উৎসাহিত করা। কিন্তু এক শ্রেণীর নষ্ট মানুষ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে এবং বাজে কথা বলে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বয়স্ক পুরুষের বিয়ে

একইভাবে কোনো বয়স্ক পুরুষ যদি তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একাকীত্ব কাটাতে বা নিজের প্রয়োজনে বিয়ে করতে চান, তাহলে সমাজের অন্য মানুষের আগে তার নিজের ছেলে-মেয়েরাই বাধা দেয়। এটা অত্যন্ত স্বার্থপর আচরণ। বাবার বুড়ো বয়সেও একজন সঙ্গিনীর প্রয়োজন আছে, তার সব প্রয়োজন ও একাকীত্ব সন্তানরা পূরণ করতে পারে না। অথচ কেউ বুড়ো বয়সে বিয়ে করলে সমাজের মানুষ তা নিয়ে হাসাহাসি করে এবং মনে করে বুড়ো বয়সে তার ভীমরতি ধরেছে। এগুলো আমাদের সমাজের কুসংস্কার যা দূর করা জরুরি।

ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

কোনো ডিভোর্সি বা বিধবা নারীকে বিয়ে করা দোষের বিষয় নয়, বরং এটি বড় পুণ্যের কাজ। নবী করীম (সা.) এবং সাহাবীদের জীবনী ঘাটলে দেখা যায়, ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মানুষরা বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীদের বিয়ে করেছেন। স্বয়ং রাসুলুল্লাহর (সা.) স্ত্রীদের মধ্যে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) ছাড়া বাকি সবাই বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা ছিলেন। তাই কেউ যদি ডিভোর্সি কোনো নারীকে বিয়ে করে, তবে সে মূলত নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের সুন্নতের ওপরই আমল করে।

সুন্নতের অনুসরণ

সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে হলে এই ধরনের মানুষদের সৎ সাহস ও উৎসাহ দেওয়া উচিত। যারা দাড়ি রেখে বা নামাজ পড়েও এই ভালো কাজ নিয়ে হাসাহাসি করে, তারা গর্হিত গুনাহের কাজ করছে। কোনো ভালো কাজকে মন্দ বলাও অন্যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই জ্ঞানহীন আচরণ থেকে বাঁচার এবং চিন্তাভাবনা উন্নত করার তৌফিক দান করুন।'