হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে শৃঙ্খলাহীনতা: যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়ে সায়দাবাদ টার্মিনালের মতো দৃশ্য
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে শৃঙ্খলার মারাত্মক অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে আগমনী যাত্রী, অন্যদিকে বর্হিগমন যাত্রীদের ভিড়ে বিমানবন্দরটি প্রায় গাবতলী বা সায়দাবাদ বাস টার্মিনালের মতো পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রতিটি যাত্রীর সঙ্গে চার-পাঁচ জন স্বজন উপস্থিত থাকায় বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করছেন তারা, যা পুরো এলাকাজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
বিমানবন্দরের ভেতরে বিরূপ পরিবেশ ও ধুলাবালি
বিমানবন্দরের গোলচত্বর থেকে ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বিরূপ পরিবেশ। দুই পাশের রাস্তায় উঁচু ডিভাইডারের পাশে অনেকে খাবার খাচ্ছেন বা সিগারেট টানছেন। একটু ভেতরে যেতেই ধুলাবালির কারণে নাক-মুখ ঢাকতে বাধ্য হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। আগমনী টার্মিনাল ১ ও ২-এ যাত্রীরা একে অপরকে ঠেলে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যেন গ্রিন চ্যানেলে প্রবেশের জন্য প্রতিযোগিতা চলছে। এখানে আনসার, পুলিশ বা এভসেক সদস্যরাও অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন নিয়ম মানাতে ব্যর্থ হয়ে।
বর্হিগমন এলাকায় স্বজনদের ভিড় ও বিক্ষিপ্ত অবস্থান
বর্হিগমন এলাকায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে। দুইতলায় গেলে শত শত মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যেখানে প্রতিটি যাত্রীর সঙ্গে কমপক্ষে তিন জন স্বজন উপস্থিত। পুরো বিমানবন্দরজুড়ে যাত্রী ও স্বজনদের এমন অবস্থান চোখে পড়ে, যা শৃঙ্খলাকে ব্যাহত করছে। ফ্লাইট নামার সঙ্গে সঙ্গেই স্বজনদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়, তারা ক্যানোপির ভেতরে প্রবেশ করতে চান, যদিও আগে সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, বাধা দিতে গেলে হট্টগোল শুরু হয়, তাই এখন কেউ বাধা দিতে চায় না।
বিধিনিষেধ উপেক্ষা ও লোকসমাগমের কারণ
প্রায় দেড় বছর আগে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীর সঙ্গে দুজনের বেশি প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও তা উপেক্ষিত হচ্ছে। একজন যাত্রীর সঙ্গে চার-পাঁচ জন স্বজন আসার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীর সঙ্গে স্বজন কম এলে এত লোকসমাগম হতো না। দর্শনার্থীরা অভিযোগ করছেন যে আগে শৃঙ্খলা থাকলেও এখন তা নেই, প্রবাসী যাত্রীদের বসার জায়গা সীমিত হওয়ায় বাইরে বিক্ষিপ্তভাবে বসতে হচ্ছে। সামনে ও দুই স্থানে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় বাতাসে ধুলা-ময়লা ছড়াচ্ছে, যা পরিবেশকে আরও বিরূপ করে তুলছে।
দর্শনার্থী ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিমানবন্দরে আসা আব্দুস সালাম বলেন, গ্রামের লোকজন নিয়ম সম্পর্কে সচেতন নন, এবং দীর্ঘদিন পর কেউ দেশে ফিরলে অনেকেই তাকে নিতে আসতে চান, যা গাড়ি ভাড়ার খরচ কমানোর জন্য গাড়ি ভর্তি করে আসার কারণ হয়। আকবর হোসেন নামে এক স্বজন জানান, সৌদি আরব থেকে ভাইয়ের ছেলে আসায় হাইস গাড়িতে আট জন এসেছেন, কিন্তু বসার জায়গা না থাকায় বটতলায় বসে আছেন। শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, কেউ নিয়ম মানতে চায় না, এবং বলপ্রয়োগ করতে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়, তবে হ্যান্ডমাইকে অনুরোধ করে নিয়ম মানানোর চেষ্টা চলছে।



