ঈদের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রে মানুষের ঢল, চিড়িয়াখানায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর্শনার্থী
ঈদে ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রে মানুষের ঢল, চিড়িয়াখানায় রেকর্ড

ঈদের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রে মানুষের ঢল, চিড়িয়াখানায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর্শনার্থী

ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনেও নগরবাসীরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ভিড় করছেন ঢাকার বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে। রবিবার (২২ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান এবং জিয়া উদ্যানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রায় দুই লাখ দর্শনার্থী ঘুরতে এসেছেন, যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

বিনোদনকেন্দ্রগুলিতে দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান এলাকায় মানুষের ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে, প্রায় অর্ধ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল। যান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এই রাস্তায়। জিয়া উদ্যানেও ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি, যেখানে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

পরিবার-পরিজন নিয়ে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মূলত ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যই এসব বিনোদনকেন্দ্রে বেড়াতে এসেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ২০ বছর পর বেড়াতে এসেছেন ফখরুল আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি ২০ বছর আগে শেষবারের মতো বোটানিক্যাল গার্ডেনে এসেছিলাম। তখনকার পরিবেশ ভালো ছিলো না, পরিবার নিয়ে আসা যেতো না এবং নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় থাকতে হতো। এখন এসে দেখলাম পরিবেশ আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে, নিরাপত্তাও ভালো হয়েছে এবং টয়লেটের ব্যবস্থা অনেক ভালো করা হয়েছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রবাসী কামরুল হাসান ঈদ করতে এসেছেন নিজের দেশে এবং মেয়েকে নিয়ে জিয়া উদ্যানে বেড়াতে এসেছেন। তিনি বলেন, “সব সময়তো আর বাচ্চাদের সঙ্গে ঈদ করা হয় না, তাই এবার মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম। এই পার্কে ভালো লাগে এবং বাসার কাছেই থাকায় কিছুটা সময় কাটাচ্ছি।”

নোয়াখালী থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসেছেন মো. রিয়াজ, যিনি বড় বোন ও ভাগ্নে-ভাগ্নীসহ জিয়া উদ্যানে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, “ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতেই সময় চলে যায়, তাই ঈদের পরে একটু এখানে বেড়াতে এসেছি।”

চিড়িয়াখানায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর্শনার্থী

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, “গতকাল প্রত্যাশার তুলনায় কম দর্শনার্থী এলেও আজ চিড়িয়াখানার ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর্শনার্থী এসেছে। আমাদের ধারণা ছিল দর্শনার্থীর সংখ্যা এক লাখ বা তার কাছাকাছি হবে, কিন্তু আজ প্রায় দুই লাখ দর্শনার্থী এসেছেন, যা গতবছরের সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭৫ হাজারের চেয়েও বেশি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এত দর্শনার্থী এলেও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে তাদের সামাল দিতে কোনও সমস্যা হয়নি। নিরাপত্তার জন্য ডিএমপি পুলিশ, র‍্যাব, টুরিস্ট পুলিশ, নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, আনসার বাহিনী এবং অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশও কাজ করছে, ফলে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে আসা-যাওয়া করতে পারছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

মালিবাগ থেকে পরিবার নিয়ে জিয়া উদ্যানে বেড়াতে এসেছেন আবুল কালাম, যিনি বলেন, “এবার ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়া গিয়েছে, তাই পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারবো। ঈদের পর দিন এসেছি সবাইকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে, এখন আমাদের নিজেদের সময়।”

ঈদের এই ছুটিতে ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রগুলিতে মানুষের এই ব্যাপক উপস্থিতি শহুরে জীবনযাপনে আনন্দের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।