ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি: যমুনা সেতুতে ২৫ কিলোমিটার যানজট, ট্রেনে দীর্ঘ বিলম্ব
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি: যমুনা সেতুতে যানজট, ট্রেন বিলম্ব

ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি: যমুনা সেতুতে ২৫ কিলোমিটার যানজট, ট্রেনে দীর্ঘ বিলম্ব

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখী যাত্রীদের জন্য বৃহস্পতিবার ছিল এক কঠিন দিন। ঢাকা ছেড়ে গ্রামের পথে নামা লাখো মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা ছাড়িয়েছে সব সীমা। উত্তরবঙ্গের দিকে যমুনা সেতুতে অন্তত ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট, ট্রেনে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার বিলম্ব এবং বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

যমুনা সেতুতে যানজট: ১৫টি গাড়ি বিকল, লেন একমুখী করা হয়

যমুনা সেতুতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সেতুর ওপর ১৫টি গাড়ি বিকল হওয়ায় ভোর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের দৈর্ঘ্য ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই যানজটে উত্তরবঙ্গগামী হাজারো যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত সেতু একমুখী করে দুই লেন দিয়ে যানবাহন উত্তরবঙ্গের দিকে পার করানোর ব্যবস্থা করে। এতে বিকেলের দিকে যানজট কিছুটা কমে এলেও পুরো দিন যাত্রীদের জন্য ছিল এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা।

গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায়ও বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনের গতি কমে যায় এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। অনেকেই সময়মতো বাস না পেয়ে ট্রাক ও পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এক বাসচালক জানান, ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে তাঁর সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা লেগেছে, যার বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে যানজটে আটকে থেকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেলপথে বিপর্যয়: নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেসে দীর্ঘ বিলম্ব

রেলপথেও ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল না। নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। অন্যদিকে, পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিলম্ব ছিল সাত ঘণ্টা। এই শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, আগের দিন নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি কোচ বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হওয়ায় সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যায়। কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়, অনেকেই দাঁড়িয়ে বা ব্যাগের ওপর ভর দিয়ে অপেক্ষা করেন।

অতিরিক্ত ভাড়া ও নিরাপত্তাহীনতা: যাত্রীদের উদ্বেগ

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বরিশাল, খুলনা, সিলেটসহ বিভিন্ন রুটে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এক যাত্রী জানান, খুলনাগামী বাসে ৬০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, তবু সিট পাওয়া যাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বাসসংকটের মধ্যেও যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তাহীনতাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর উত্তরায় এক গৃহবধূর ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণহানি এবং খুলনায় একই পরিবারের চার সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও পুলিশ ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঈদগাহ ও টার্মিনালগুলোয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তবুও এসব ঘটনা মানুষের মনে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নৌপথে স্বস্তি: পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে তুলনামূলক কম ভোগান্তি

নৌপথে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। নরসিংদীর পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ বাড়লেও ঘাটে আসার আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে বাসগুলো ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। তবে পুরান ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় ছিল, যা বিকেলে আরও বেড়ে যায়।

ঈদের আগের এই শেষ মুহূর্তে যাত্রীদের ভোগান্তি কাটাতে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অনেকেই। যানজট, বিলম্ব ও অতিরিক্ত ভাড়ার এই চক্র থেকে মুক্তি পেতেই যাত্রীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রার জন্য।