পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন বিকাশে সমন্বয় জরুরি: দীপেন দেওয়ান
পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন বিকাশে সমন্বয় জরুরি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটির পর্যটন খাতের উন্নয়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের কোনো বিকল্প নেই।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী

রবিবার রাতে বড়গী লেক ভ্যালিতে রাঙ্গামাটি রিসোর্ট মালিক সমিতি আয়োজিত 'পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন খাতের উন্নয়ন' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি তনয় দেওয়ান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুমেধা চাকমা।

রাইন্যঃ তুগুন ইকো রিসোর্টের পরিচালক ললিত চন্দ্র চাকমা, নীলা চাকমা, বাপ্পি তঞ্চঙ্গ্যা এবং রিভু চাকমা প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভায় রিসোর্ট মালিকরা রাঙ্গামাটির পর্যটন খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জরুরি সংস্কারের দাবি

বক্তারা বলেন, সুবলং জলপ্রপাত এবং ঝুলন্ত সেতুর সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে গেলে সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়, যা পর্যটকদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করে। তারা আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কে পর্যটকদের জন্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, রাঙ্গামাটি শহরে একটি বোট টার্মিনাল স্থাপন এবং পর্যটন খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগের দাবি জানান।

রিসোর্ট মালিকরা অভিযোগ করেন, প্রতি শুক্রবার ও শনিবার রক্ষণাবেক্ষণের নামে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়, যা পর্যটক ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের জন্য চরম অসুবিধার কারণ হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্ত্রীর বক্তব্য

দীপেন দেওয়ান বলেন, 'পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ শিল্পপতি নন। অনেকে জমি বা পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে কষ্ট করে রিসোর্ট তৈরি করেছেন। সরকার তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।' তিনি পর্যটন উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা ও নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, 'শুধু টাকা নয়, ডলারও উপার্জন করতে হবে। বিদেশি পর্যটক এলে দেশের অর্থনীতিও লাভবান হবে।' তিনি জানান, বিষয়টি তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কম হওয়ার পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, 'নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিরাপত্তার নামে পর্যটন খাতকে অবহেলা করা যাবে না।' তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

তিনি গণমাধ্যমকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, কাপ্তাই হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতে হবে, কারণ এটি পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তিনি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পুলিশ এবং রিসোর্ট মালিকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সহযোগিতার আশ্বাস

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং আলোচিত সমস্যা সমাধানে রিসোর্ট মালিকদের সর্বাত্মক সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।