বর্ষাকালে ড্যাফোডিল ক্যাম্পাসের মোহনীয় রূপ ও অনুভূতি
বর্ষাকালে ড্যাফোডিল ক্যাম্পাসের মোহনীয় রূপ

বর্ষাকালে ড্যাফোডিল ক্যাম্পাসের মোহনীয় রূপ

বর্ষাকাল আমার সবচেয়ে প্রিয় ঋতু। আকাশের মেঘলা মন আর অঝোর ধারার বৃষ্টি—এই দুটো জিনিসের প্রতি অন্য রকম এক টান কাজ করে। সেদিনও সকাল থেকে আকাশটা ছিল ধূসর। ক্লাস শেষ হতে হতে দুপুরের খিদেটা বেশ চাড়া দিয়ে উঠল।

ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে করিডর দিয়ে যখন হাঁটছি, পকেট থেকে ইয়ারবাডস জোড়া বের করে কানে লাগিয়ে নিলাম। মোবাইলে বাজছে শ্রীকান্ত আচার্যের সেই মায়াবী সুর ‘আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম…’ ক্লাসরুম থেকে ‘গ্রিন গার্ডেন’ পর্যন্ত যাওয়ার এই পথটুকু সেদিন যেন এক অন্য জগতের মতো লাগছিল। গানের সুর আর চারপাশের মেঘলা পরিবেশটা একদম মিশে গিয়েছিল।

খিচুড়ি আর বৃষ্টির তৃপ্তি

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই মায়াবী আবহাওয়ায় খিচুড়ি ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায় না। সোজা চলে গেলাম গ্রিন গার্ডেন ক্যাফেতে। ধোঁয়া ওঠা গরম খিচুড়ি আর বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টির ঝাপটা—তৃপ্তিটা যেন ওই মুহূর্তেই পূর্ণতা পেল। সেদিন সঙ্গে ডিএসএলআর ক্যামেরাটা নেওয়া হয়নি; কিন্তু তাতে কী? ফটোগ্রাফির নেশা যার রক্তে, সে তো সামান্য ফোন দিয়েই দৃশ্যপট বন্দী করতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বনমায়ায় মৌমাছির ছবি

ক্যাফে থেকে বের হয়েই পা বাড়ালাম বনমায়ার দিকে। সবুজে ঘেরা এই মায়াবী অরণ্য বৃষ্টির ছোঁয়ায় যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। ফোনটা বের করে বৃষ্টির ঝাপটার মাঝে কিছু শট নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল একটা ছোট মৌমাছি; বৃষ্টির মধ্যেই সে একটা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। প্রকৃতির এই সূক্ষ্ম সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দী করতে করতে এতটাই মগ্ন হয়ে গিয়েছিলাম, কখন হাতের ছাতাটা একপাশে রেখে দিয়েছি, হুঁশ ছিল না। কিছুক্ষণ পর যখন হুঁশ ফিরল, দেখি ছাতাটা উধাও!

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাতা হারানোর আফসোসটুকু বৃষ্টির পানিতেই ধুয়ে ফেললাম। ফোনটা সাবধানে পকেটে পুরে দিয়ে ইচ্ছেমতো ভিজতে ভিজতে গিয়ে বসলাম লেকপাড়ে। লেকের শান্ত পানিতে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যখন আছড়ে পড়ছিল, তখন যে এক অপূর্ব টুপটাপ শব্দ তৈরি হচ্ছিল, তা কান পেতে শুনছিলাম। সেই শব্দের মোহ আর সবুজের আভা যেন আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।

নিলয়ের সঙ্গে চা

ভিজে জবুথবু হয়ে ৮ নম্বর গেটের দিকে এগোলাম। ওখানে গিয়ে নিল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। নিলয় ধর নিল, যাঁর কাছে আমি লিডারশিপের পাঠ নিই। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই। আমাকে এভাবে কাকভেজা হয়ে কাঁপতে দেখে তিনি ভ্রু কুঁচকে একটু শাসনের সুরেই বললেন, ‘কিরে, একদম ভিজে যে শেষ! ছাতা আনিস নি?’

আমি অপরাধী মুখে হাসলাম। ছাতা হারানোর গল্পটা শুনে তিনি আর কথা বাড়ালেন না। দুজনে মিলে ৮ নম্বর গেটের চায়ের দোকানে বসে এক কাপ গরম চা খেলাম। চা খেতে খেতে বৃষ্টির শব্দ শোনা আর ভাইয়ের সেই মৃদু শাসনটুকু যেন ওই বিকেলটাকে পূর্ণতা দিল।

বাইকে করে মিরপুর

তখন আমি মিরপুরে থাকতাম। চা শেষ করে নিল ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাইক স্টার্ট দিলাম। গায়ে রেইনকোট ছিল ঠিকই, কিন্তু বৃষ্টির তেজ এতটাই বেশি ছিল যে রেইনকোট হার মেনে গেল। মিরপুরের পথে পুরোটা সময় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাইক চালালাম। বাসায় ফিরে যখন ব্যাগটা খুললাম, দেখি ব্যাগের ভেতরে থাকা খাতা, ডায়েরি সব ভিজে একাকার।

বর্ষার প্রত্যাবর্তন

এখনো ক্যাম্পাসের সবুজ পথগুলো দিয়ে হাঁটি, এখনো বৃষ্টি নামলে বনমায়া একইভাবে সেজে ওঠে। কিন্তু ব্যস্ততা আর ক্লাসের চাপে কত দিন হলো মন ভরে বৃষ্টিতে ভেজা হয় না! সামনেই আবার বর্ষাকাল আসছে। মনে মনে ঠিক করে রেখেছি, আকাশের মেঘগুলো ঘন হয়ে জমলে এবার আর কোনো ছাতা নয়, কোনো আবরণ নয়, আমি আবারও ভিজব। প্রিয় সবুজ ক্যাম্পাস আর প্রিয় বৃষ্টিতে নিজেকে আরও একবার সঁপে দেব, সব চিন্তা, সব টেনশন মুছে দিতে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ড্যফোডিল বন্ধুসভা