দুনিয়ার কষ্ট মুমিনের জন্য রহমত ও পুরস্কারের পথ: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
দুনিয়ার কষ্ট মুমিনের জন্য রহমত ও পুরস্কারের পথ

মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, প্রাচুর্য-অভাব, সুস্থতা-অসুস্থতার এক অবিচ্ছেদ্য সমন্বয়। কেউ দারিদ্র্যে, কেউ রোগে, কেউ প্রিয়জন হারানোর বেদনায়, আবার কেউ নানাবিধ পরীক্ষায় দিন কাটায়। একজন মুমিন জানেন, এসব কষ্ট নিছক দুর্ভাগ্য নয়; বরং এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা এবং ধৈর্যশীল বান্দাদের জন্য অফুরন্ত প্রতিদানের মাধ্যম। তাই দুনিয়ার সাময়িক কষ্টে হতাশ না হয়ে ইমান, ধৈর্য, নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়।

দুনিয়ার কষ্ট—মুমিনের জন্য রহমত ও পুরস্কারের পথ

দুনিয়ার কষ্ট ক্ষণস্থায়ী, আখিরাতের পুরস্কার চিরস্থায়ী। দুনিয়ার ভয়, দুঃখ, কষ্ট ও যাবতীয় ক্ষতি মুমিনের জন্য রহমত ও সুসংবাদ। আল্লাহ তাআলা বলেন—وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ ‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৫)

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন—إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে প্রদান করা হবে।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ১০)

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাদিসের আলোকে কষ্টের কল্যাণ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ، وَلَا وَصَبٍ، وَلَا هَمٍّ، وَلَا حُزْنٍ، وَلَا أَذًى، وَلَا غَمٍّ، حَتَّى الشَّوْكَةُ يُشَاكُهَا، إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ ‘মুসলিমের ওপর যে ক্লান্তি, অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট কিংবা বেদনা আসে—এমনকি একটি কাঁটার আঘাতও—আল্লাহ এর মাধ্যমে তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন।’ (বুখারি ৫৬৪১, মুসলিম ২৫৭৩)

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরও একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ... إِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ ‘মুমিনের অবস্থা সত্যিই বিস্ময়কর। তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে— এটি তার জন্য কল্যাণ। আর দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত হলে সে ধৈর্য ধারণ করে— এটিও তার জন্য কল্যাণ।’ (মুসলিম ২৯৯৯)

কষ্টকে জান্নাতের পাথেয় বানানোর উপায়

দুনিয়ার কষ্ট তখনই আখিরাতের সফলতার কারণ হয়, যখন একজন বান্দা—পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করে, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করে, বিপদে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকে, হারাম ও গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখে, আশা হারিয়ে না ফেলে আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখে।

উপসংহার

এভাবেই দুনিয়ার প্রতিটি অশ্রু, প্রতিটি কষ্ট এবং প্রতিটি ধৈর্যের মুহূর্ত আখিরাতে জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামতে রূপ নিতে পারে। দুনিয়ার জীবন ক্ষণিকের, কিন্তু আখিরাত চিরস্থায়ী। তাই আজকের কষ্ট, রোগ, দারিদ্র্য কিংবা পরীক্ষায় নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আল্লাহ তাআলা তার ধৈর্যশীল বান্দাদের কখনো নিরাশ করেন না। যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করে, নামাজে অবিচল থাকে, হারাম থেকে বেঁচে থাকে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে— তার জন্য আখিরাতে রয়েছে এমন প্রতিদান, যা মানুষের কল্পনারও অতীত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।