রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত দুটো-তিনটার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়? নাকি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে উদ্বেগে ভোগেন যে পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না? এই সমস্যা অনেকেরই কমন। কেউ কেউ মনে করেন এটি মানসিক চাপের কারণে হয়, আবার কারো কাছে এটি গুরুতর সমস্যা। তবে এটি ঠিক যে হঠাৎ ঘুম কমে যাওয়া নানা সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
ঘুমের পর্যায় ও রাত জাগার কারণ
ঘুম একটি নিরবিচ্ছিন্ন অবস্থা নয়। এর বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে: লাইট স্লিপ বা পাতলা ঘুম, গভীর ঘুম এবং আরইএম (র্যাপিড আই মুভমেন্ট) স্লিপ বা স্বপ্ন দেখার পর্যায়। এই চক্র প্রতি ৯০ মিনিটে পরিবর্তিত হয়। সাধারণত রাতের প্রথম দিকে গভীর ঘুম হয়, আর ভোরের দিকে হালকা ঘুম হয়। রাত দুটো-তিনটার দিকে হালকা ঘুমের কারণে সামান্য শব্দ বা নড়াচড়ায় ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
সার্কাডিয়ান রিদম ও কর্টিসলের ভূমিকা
সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়ি আমাদের ঘুম ও জাগরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ভোরের দিকে শরীর ধীরে ধীরে পরদিনের জন্য প্রস্তুতি নেয় এবং কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের জাগিয়ে তোলে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গেলে মস্তিষ্ক সতর্ক সংকেত পায় এবং ঘুম ব্যাহত হয়।
হরমোনের প্রভাব
মুম্বইয়ের ওখার্ড হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. প্রশান্ত মাখিজা জানান, ঘুম নিয়ন্ত্রণে মেলাটোনিন, কর্টিসল, অ্যাড্রেনালিন, নোরড্রেনালিন, গ্রোথ হরমোন ও ইনসুলিনের ভূমিকা রয়েছে। মেলাটোনিন রাতে বেশি নিঃসৃত হয়, যা ঘুম আনতে সাহায্য করে। এর মাত্রা কমলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।
লাইফস্টাইলের প্রভাব
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ঋষভ ভার্মা বলেন, অ্যালকোহল, দেরি করে খাওয়া এবং স্ক্রিন টাইম ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। অ্যালকোহল প্রাথমিকভাবে ঘুম আনলেও পরে তা উত্তেজক হিসেবে কাজ করে। রাতে ভারী খাবার বা মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে গিয়ে পরে কমে যায়, যা স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে। ফোনের নীল আলো মস্তিষ্ককে দিন ভাবায়, ফলে ঘুমের প্রাকৃতিক সংকেত ব্যাহত হয়।
স্বাভাবিক কি না?
ডা. ভার্মার মতে, রাতে দুই থেকে চারবার জাগা স্বাভাবিক। বিবর্তনের কারণে আমাদের পূর্বপুরুষরা রাতে কিছুক্ষণ জেগে থাকতেন বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে। তবে ঘুম ভাঙার পর আবার ঘুমিয়ে পড়তে না পারাই সমস্যা।
ঘুমের উন্নতির জন্য নিয়মিত ঘুমের সময়, ক্যাফেইন এড়ানো, আরামদায়ক পরিবেশ এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট জরুরি।



