যে তিন জিনিসের হিসাব দিতে হবে না: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
যে তিন জিনিসের হিসাব দিতে হবে না

যে তিন জিনিসের হিসাব দিতে হবে না!

মানুষ পৃথিবীতে আসে খালি হাতে, আবার একদিন খালি হাতেই ফিরে যাবে রবের দরবারে। অথচ এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের সামান্য প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে না থেকে আমরা অনেক সময় ভোগ-বিলাস, প্রতিযোগিতা এবং সম্পদ সঞ্চয়ের অন্তহীন দৌড়ে মগ্ন হয়ে যাই। দুনিয়ার চাকচিক্য আমাদের এমনভাবে আচ্ছন্ন করে যে, আমরা ভুলে যাই—একদিন প্রতিটি নিয়ামত, প্রতিটি সুযোগ এবং প্রতিটি ভোগের হিসাব দিতে হবে মহান আল্লাহর কাছে।

যে তিনটি বিষয়ের হিসাব নেই!

প্রখ্যাত তাবেঈ ইমাম হাসান আল-বাসরী (রহ.) বলেছেন— ‘দুনিয়ায় মানুষের প্রয়োজন খুবই সামান্য; আর তাহলো—

  • লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এক টুকরা কাপড়।
  • জীবন ধারণের জন্য অল্প কিছু খাদ্য।
  • মাথা গোঁজার জন্য একটি আশ্রয়।

এর বাইরে দুনিয়ার যত নিয়ামত, সম্পদ ও ভোগ-বিলাস আছে, সবকিছুর হিসাব একদিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে।’ (কিতাবুয যুহদ ২২১)

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কত গভীর এই উপলব্ধি! মানুষ যে সম্পদের জন্য জীবনভর সংগ্রাম করে, যে বিলাসিতার জন্য নিজেকে ক্লান্ত করে, যে প্রাচুর্য নিয়ে অহংকার করে— এসবের কিছুই কবর পর্যন্ত সঙ্গে যাবে না। বরং এগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ হবে— কোথা থেকে অর্জন করেছিলে, কীভাবে ব্যয় করেছিলে এবং আল্লাহর নিয়ামতের কতটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলে।

কুরআনের সতর্কবাণী

আল্লাহ তাআলা বলেন— ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ ‘অতঃপর সেদিন অবশ্যই তোমাদেরকে নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সুরা আত-তাকাসুর: আয়াত ৮)

এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, সময়, পরিবার, খাদ্য, বাসস্থান— সবই আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত। আর প্রতিটি নিয়ামতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাদিসের আলোকে

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ أَرْبَعٍ... وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পদদ্বয় সরবে না, যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে... তার সম্পদ সম্পর্কে— কোথা থেকে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে।’ (তিরমিজি ২৪১৭)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ ‘পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিস আসার আগে মূল্যবান মনে করো...’ (আল-মুস্তাদরাক ৭৮৪৬) অর্থাৎ সময়, সুস্থতা, সামর্থ্য ও সুযোগ—এসব আল্লাহর আমানত; এগুলোরও হিসাব দিতে হবে।

হৃদয়ের জন্য কিছু কথা

আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে চাওয়া সবসময় বেশি। একটি ঘর থাকলে আরেকটি চাই, একটি বাহন থাকলে আরও উন্নত বাহন চাই। কিন্তু মৃত্যুর পর মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হবে না সে কত সম্পদ জমিয়েছে; বরং জিজ্ঞাসা করা হবে সে তার সম্পদ দিয়ে কী করেছে।

তাই দুনিয়ার সম্পদকে লক্ষ্য নয়, বরং আখিরাতের পাথেয় বানানোই একজন মুমিনের প্রজ্ঞা। প্রয়োজন পূরণ করা সুন্নাহ, কিন্তু বিলাসিতার মোহে ডুবে যাওয়া আত্মার জন্য বিপজ্জনক।

দুনিয়া আমাদের স্থায়ী ঠিকানা নয়; এটি একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র মাত্র। জীবনের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের পর যা কিছু আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন, সবই তার পক্ষ থেকে আমানত। তাই সম্পদের অহংকার নয়, কৃতজ্ঞতা; ভোগের প্রতিযোগিতা নয়, দায়িত্বশীলতা; দুনিয়ার মোহ নয়, আখিরাতের প্রস্তুতিই হোক আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য।

আল্লাহ আমাদেরকে তার নিয়ামতের যথাযথ কদর করার, অপচয় ও অহংকার থেকে বেঁচে থাকার এবং হিসাবের দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।