রাসুলুল্লাহ (সা.) ছয়টি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা আন্তরিকভাবে ধারণ করলে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া যায়। হজরত ওবাদাতা ইবনে সামেত (রা.) বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, 'তোমরা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।' (বাইহাকি, মুসনাদ আহমাদ ও মুস্তাদরাকে হাকেম ৮০৬৩)
সত্যবাদিতা ও ওয়াদা পূর্ণ করা
প্রথম গুণ হলো কথা বললে সত্য বলা। সুরা আত-তাওবার ১১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।' দ্বিতীয় গুণ হলো ওয়াদা করলে তা পূর্ণ করা। সুরা আল-ইসরার ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।'
আমানত রক্ষা ও চারিত্রিক পবিত্রতা
তৃতীয় গুণ আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করা। সুরা আন-নিসার ৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা যেন আমানত যথাযথভাবে তার হকদারের কাছে পৌঁছে দাও।' চতুর্থ গুণ নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত করা। সুরা আল-মুমিনুনের ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'আর যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।'
দৃষ্টি সংযম ও অপরকে কষ্ট না দেওয়া
পঞ্চম গুণ দৃষ্টি সংযত রাখা। সুরা আন-নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, 'মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে।' ষষ্ঠ গুণ হলো হাত ও জিহ্বা দিয়ে কাউকে কষ্ট না দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।' (বুখারি ১০, মুসলিম ৪০)
জান্নাত লাভের পথ কেবল নফল ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্যবাদিতা, ওয়াদা রক্ষা, আমানতদারি, চারিত্রিক পবিত্রতা, দৃষ্টি সংযম এবং মানুষের প্রতি উত্তম আচরণের মাধ্যমেও জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করা যায়। একজন মুমিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই ছয়টি গুণ বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘোষিত মহান সুসংবাদের আশা করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মহৎ গুণগুলো অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।



