প্রথম আলোর সাহিত্য বিভাগে প্রকাশিত 'সেরেনাদ' কবিতাটি পাঠকদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কবি এস এম রাকিবুর রহমানের অলংকরণে সজ্জিত এই কবিতায় ব্যর্থতা, মৃত্যু ও আধ্যাত্মিকতার এক গভীর সম্মিলন ঘটেছে।
কবিতার মূল প্রতিপাদ্য
কবিতার শুরুতে বলা হয়েছে, 'তুমি নেই এই সত্য জেনে / মজনুন আমি সেজদায় তবু / তোমারই নামজারি করি।' এখানে প্রেমিক মজনুনের মতো করে কবি তার প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতেও তাকে স্মরণ করছেন। পরবর্তী অংশে 'তুমি শূন্য মন্দিরের ঘণ্টার ধ্বনি হয়ে / অবজ্ঞার সেরেনাদে কোথায় যে মিলাও!'—এখানে সেরেনাদকে এক ধরনের প্রতীকী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্যর্থতা ও মৃত্যুর গান
কবি বলছেন, 'আমি তবু স্নায়ুর রক্ত ছিঁড়ে / উন্মীলিত কণ্ঠপুঞ্জ তোমার দিকেই মেলে ধরি / হে আমার ব্যর্থতা, হে আমার স্বেচ্ছামৃত্যুর / রক্তশূন্য সেরেনাদ!' এখানে ব্যর্থতা ও মৃত্যুকে একসঙ্গে আহ্বান করা হয়েছে। 'তুমি বাজাও তোমার আঙুলের অলৌকিক / নবম সিম্ফনি; আমি শুনি আর দিন গুনি, / বধির দিনের স্তব্ধতা ছিঁড়ে বাজুক আর্তনাদ!'—এই অংশে বধির দিনের স্তব্ধতা ভেঙে আর্তনাদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শেষাংশ
কবিতার শেষে 'সেরেনাদ! ওহে মৃত্যুনাদ!' বলে এক ধরনের মৃত্যু-আহ্বান করা হয়েছে। পুরো কবিতাটি জুড়ে রয়েছে এক গভীর বিষাদ ও আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণ।



