ইবলিশের চেয়েও খারাপ বলা কি ইসলামে জায়েজ? ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার সতর্কতা
ইবলিশের চেয়েও খারাপ বলা কি জায়েজ? ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার সতর্কতা

‘ইবলিশের চেয়েও খারাপ’—মুখের একটি বাক্যই হতে পারে ঈমানের জন্য ভয়ংকর বিপদ। রাগ, আবেগ কিংবা হাসি-ঠাট্টার মুহূর্তে মানুষ অনেক কথাই বলে ফেলে, যার পরিণতি সম্পর্কে সে সচেতন থাকে না। অথচ ইসলামে মানুষের জিহ্বাকে সবচেয়ে সংবেদনশীল আমানতগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এমন কিছু বাক্য আছে, যা মানুষ তুচ্ছ মনে করে উচ্চারণ করলেও আল্লাহর কাছে তা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হতে পারে। তাই একজন মুসলিমের উচিত প্রতিটি শব্দ উচ্চারণের আগে তার পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকা।

যে কথা মজা করে বলাও ভয়ংকর

‘অমুক লোক ইবলিশের চাইতেও খারাপ।’ রাগের মাথায়, আবেগের বশে কিংবা হাসি-ঠাট্টার ছলেও আমাদের অনেকেই এ ধরনের কথা বলে ফেলি। কিন্তু ইসলামী আকিদার দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক একটি বক্তব্য।

এ বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামি মনীষী ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) সতর্ক করে বলেছেন— ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম সম্পর্কে বলে, ‘সে ইবলিশের চেয়েও খারাপ’, সে দ্বীনের এমন একটি অপরিহার্য বিষয়ের বিরোধিতা করে, যা প্রত্যেক মুসলিমের জানা আবশ্যক।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থাৎ, একজন মুসলিম— সে যত বড় গুনাহগারই হোক না কেন— তাকে ইবলিশের চেয়েও নিকৃষ্ট বলা আকিদাগতভাবে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারণ ইবলিশ আল্লাহর আদেশ অমান্য করে অহংকারবশত কুফরি করেছে এবং সে চিরস্থায়ীভাবে অভিশপ্ত। পক্ষান্তরে একজন মুসলিম ঈমানের কারণে ইবলিশের সমান বা তার চেয়েও নিকৃষ্ট হতে পারে— এমন কথা বলা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর এই বক্তব্য ‘মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে (মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৫৭৩)।

কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত একজন প্রহরী (ফেরেশতা) উপস্থিত থাকে।’ (সুরা কাফ: আয়াত ১৮)

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও সতর্ক করে বলেছেন— إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يَتَبَيَّنُ فِيهَا، يَزِلُّ بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ ‘বান্দা কখনো এমন একটি কথা বলে, যার পরিণতি সম্পর্কে সে চিন্তাও করে না। অথচ সেই একটি কথার কারণে সে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের চেয়েও দূরে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়।’ (বুখারি ৬৪৭৭, মুসলিম ২৯৮৮)

জিহ্বা সংযমের গুরুত্ব

মুখের একটি অসতর্ক বাক্যও একজন মানুষের ঈমান, আমল এবং আখিরাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই রাগ, কৌতুক বা আবেগ— কোনো অবস্থাতেই এমন কথা বলা উচিত নয়, যা ইসলামী আকিদার পরিপন্থী বা কোনো মুসলিমের মর্যাদাকে অবমাননা করে। অতীতে যদি এ ধরনের কথা বলে থাকি, তবে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করা উচিত এবং ভবিষ্যতে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। কারণ একজন মুমিনের পরিচয় শুধু তার আমলে নয়, তার কথাতেও প্রকাশ পায়।