প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভায় হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন নির্দেশনা ও সেবা উন্নয়নের আহ্বান
হজ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আজ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হজযাত্রীদের সেবা উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজযাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, হজযাত্রীদের সেবার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার গাফিলতি যাতে না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি পরের বছর থেকে আরবি ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিদের হজ গাইড ও সহায়ক কর্মী হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেন, যা হজ ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সেবায় সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে তাঁরা স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকার সুবাদে আরও ভালো সেবা প্রদান করতে পারেন। তিনি হজ এজেন্সিগুলোকে তিন দিনের মধ্যে হজযাত্রীদের বাড়ি বা হোটেল ও ফ্লাইটের তথ্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক পোর্টালে আপলোড করার জন্য জোরালো নির্দেশনা দেন।
হজ এজেন্সির পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র হজ শেষে হজ এজেন্সিগুলোর পারফরম্যান্স বা কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়ন করা হলে হজ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক মান উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতে আরও দক্ষতা অর্জন সম্ভব হবে।
সভার শুরুতে, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ২০২৬ সালে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি ও সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। তিনি হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন, যা কমিটির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
এই সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার ও হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদারকে কমিটিতে কো-অপ্ট করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা কমিটির কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন পবিত্র হজ পালন করবেন এবং ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সভা হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিকনির্দেশনা ও সেবা মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



