ইসলামে সহবাসের পর যে তিনটি কাজ করা হারাম
ইসলাম ধর্মে পবিত্রতা অর্জন একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা নিজে পবিত্র এবং তিনি তার বান্দাদের পবিত্রতা পছন্দ করেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যদি অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তবে নিজেদের শরীর গোসলের মাধ্যমে ভালোভাবে পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা: ৬)। সাধারণত সহবাস, স্বপ্নদোষ, মহিলাদের হায়েজ ও নেফাস ইত্যাদি কারণে গোসল ফরজ হয়ে থাকে। ফিকহবিদদের মতে, এসব অবস্থায় নামাজ আদায়, কাবা শরীফ তাওয়াফ, কোরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শ করা এবং মসজিদে প্রবেশ ছাড়া অন্যান্য কাজ প্রয়োজন অনুযায়ী করা যেতে পারে।
গোসল ফরজ হলে হারাম কাজগুলো
স্ত্রী সহবাস বা স্বপ্নদোষের পর গোসল ফরজ হয়। গোসল না করে এই অবস্থায় যে কাজগুলো হারাম বা নিষিদ্ধ, সেগুলো হলো:
- সালাত বা নামাজ আদায় করা: গোসল না করে নামাজ পড়লে তা শুদ্ধ হবে না এবং এটি হারাম হিসেবে গণ্য হয়।
- পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা বা তিলাওয়াত করা: অপবিত্র অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা এবং তিলাওয়াত করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
- কাবা শরীফ তাওয়াফ করা: পবিত্রতা ছাড়া কাবা শরীফ তাওয়াফ করা জায়েজ নয়।
এই অবস্থায় অযু করে থাকা উত্তম হলেও গোসল ছাড়া পূর্ণ পবিত্রতা অর্জিত হয় না। অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে গোসল ফরজ হলে ঘরদোর ছোঁয়া বা দৈনন্দিন কাজ করা যাবে না, কিন্তু এটি সঠিক নয়। হাদিসে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) জানাবাত বা গোসল ফরজ অবস্থায় নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে গিয়েছিলেন, পরে নবীজি (সা.) তাঁকে দেখে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ, মুমিন কখনো সত্তা হিসেবে নাপাক হয় না।’ (সহিহ বুখারি: ২৭৯)।
গোসল করতে দেরি হলে করণীয়
গোসল করতে দেরি হলে ঘুমানোর বা পানাহারের আগে হাত-মুখ ধুয়ে নামাজের মতো অজু করে নেওয়া সুন্নত। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাবাত অবস্থায় ঘুমানোর বা খাওয়ার আগে অজু করে নিতেন (সহিহ মুসলিম: ৩০৫)। এই আমলটি পবিত্রতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ইসলামী শরিয়তে পবিত্রতার গুরুত্ব অপরিসীম, এবং গোসল ফরজ হওয়ার পর হারাম কাজগুলো এড়িয়ে চলা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব।



