আবদুল কাদেরের ফেসবুক পোস্টে চরমোনাই মাহফিলের অভিজ্ঞতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের চরমোনাই মাহফিলে গিয়ে আত্মশুদ্ধি ও আত্মার প্রশান্তির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করে এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ
আবদুল কাদের তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেছে চরমোনাই মাহফিলে আসার মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই মাহফিলে আসলাম, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা আজকে পূর্ণ হলো। ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল এখানে, আত্মশুদ্ধি আর আত্মার প্রশান্তির খোরাক পাওয়া যায় এখানে।’ তার মতে, এই মাহফিলে ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির জন্য একটি অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আবদুল কাদের তার পোস্টে চরমোনাই মাহফিলের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মজমা শুধু ধর্মীয় কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং যুগে যুগে এই অঞ্চলের মানুষের সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, ‘শতবছর ধরে চলে আসা এই মজমা আর এই কাফেলা শুধু দ্বীন কায়েমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে; যুগে-যুগে, ক্রান্তিলগ্নে এই অঞ্চলের মানুষের সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে রাজপথে লড়াই জারি রেখেছে, শাহাদাৎ বরণ করেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে একাত্মতা প্রকাশ করেছে চরমোনাই। সর্বশেষ ৪ আগস্ট পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আয়োজিত গণমিছিল মাঠপর্যায়ে শক্তি জুগিয়েছে, যা হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
পীর সাহেবের নেতৃত্বগুণ
আবদুল কাদের চরমোনাই মাহফিলে আসার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল কাছ থেকে পরিবেশ-পরিস্থিতি অবলোকন করা। তিনি বলেন, ‘দূর থেকে তো অনেক ধরনের আলাপ শুনি। আমি একটু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। পীর সাহেবের মধ্যে কোনো মেকি ভাব দেখি নাই, কোনো জড়তা নাই, সাবলীল আচরণ, সহজসরল স্বীকারোক্তি। এই দিকটা আমাকে আকৃষ্ট করেছে।’
তিনি নেতৃত্বের কিছু সুস্পষ্ট গুণাবলি শিখেছেন বলে উল্লেখ করেন, যেখানে পীর সাহেব ভিড় ও ব্যস্ততার মধ্যেও স্বাভাবিক ও সাবলীলভাবে আগত সবার সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং খেয়াল রাখছেন। আবদুল কাদের বলেন, ‘মিম্বারে বসে লাখ লাখ মানুষের ভাবাবেগ নিয়ন্ত্রণ করতেছেন, মুহুর্তের মধ্যে মানুষকে হাসাচ্ছেন, কাঁদাচ্ছেন, খোদার প্রেমে উদ্বেলিত করতেছেন, অনুপ্রাণিত করতেছেন, ইহকাল-পরকালের জন্য তালিম দিয়ে যাচ্ছেন।’
এই অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তিনি চরমোনাই মাহফিলের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক গুরুত্বকে ব্যাপকভাবে প্রশংসা করেছেন। তার ফেসবুক পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হয়েছে, যা এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে।



