রমজানে রোজা ও ফিদইয়া: কাদের জন্য কী বিধান?
রমজানে রোজা ও ফিদইয়া: কাদের জন্য কী বিধান?

রমজানে রোজা পালনের ফরজ বিধান ও বিশেষ ছাড়

পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৮৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সামর্থ্যের অধিক দায়িত্বভার চাপিয়ে দেন না।’ এই নীতির আলোকে ইসলামে রমজান মাসে রোজা পালন করা ফরজ করা হয়েছে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সক্ষম ও সাবালক সব মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য। তবে এই বিধানে বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য বিশেষ ছাড় ও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা ধর্মীয় জীবনকে সহজ ও মানবিক করেছে।

মুসাফির ও অসুস্থদের জন্য রোজার ছাড়

সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের যারা এ (রমজান) মাস পাবে, তারা যেন তাতে রোজা পালন করে। আর তোমাদের যারা পীড়িত থাকবে ও সফরে থাকবে, তবে অন্য সময়ে তারা এর সমপরিমাণ সংখ্যায় রোজা পূর্ণ করবে।’ এই আয়াত অনুযায়ী, ভ্রমণরত বা অসুস্থ ব্যক্তিরা রমজানে রোজা না রাখলেও পরে কাজা আদায় করতে পারবেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার রমজানে মক্কা শরিফের পথে যাত্রাকালে রোজা ছেড়ে দিয়েছিলেন, ফলে সঙ্গীরাও তা অনুসরণ করেছিলেন।

অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ফিদইয়ার বিধান

যারা স্থায়ীভাবে রোজা পালনে অক্ষম, যেমন অতিবৃদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি রোগী, তাদের জন্য ফিদইয়া প্রদানের বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। সুরা বাকারার ১৮৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যাদের রোজা পালনের সক্ষমতা নেই, তারা এর পরিবর্তে ফিদইয়া দেবে (প্রতি রোজার জন্য) একজন মিসকিনকে (নিজের মান অনুযায়ী এক দিনের) খাবার দেবে।’ ফিদইয়া হলো একটি বিনিময় বা প্রতিদান, যা রোজার পরিবর্তে দেওয়া হয়।

ফিদইয়ার পরিমাণ ও পদ্ধতি: প্রতিটি রোজার ফিদইয়া হলো এক ফিতরার সমান, যা প্রায় ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম খাদ্যদ্রব্য বা তার মূল্য। হাদিসে খেজুর, কিশমিশ, পনির ও যবের উল্লেখ রয়েছে। ফিদইয়া একাধিক ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করা যায় বা একাধিক দিনের ফিদইয়া এক ব্যক্তিকে দেওয়া যায়। তবে ফিদইয়া দেওয়ার পর যদি ব্যক্তি রোজা পালনে সক্ষম হন, তবে কাজা আদায় করতে হবে।

ফিদইয়ার গ্রহীতা ও নামাজের ছাড়

ফিদইয়া জাকাত ও সদকার হকদার ব্যক্তিদের দেওয়া যায়, যেমন ফকির, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত বা বিপদগ্রস্ত বিদেশি। সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে এদের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, মুসাফিরদের জন্য নামাজেও ছাড় রয়েছে: চার রাকাত ফরজ নামাজ দুই রাকাত আদায় করা যায়, এবং সুন্নত নামাজ নফল হিসেবে পড়া যায়।

লেখক: অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।