নামাজের ফজিলত ও নারীদের জামাতে নামাজের বিধান: ইসলামী দৃষ্টিকোণ
নামাজের ফজিলত ও নারীদের জামাতে নামাজের বিধান

নামাজ: মুসলমানদের সর্বোত্তম ইবাদত

ঈমানের পর মুসলমানদের জন্য সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করেছিলেন, 'আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি?' উত্তরে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'নামাজ।' (বুখারি ও মুসলিম)।

নামাজের ফরজ হওয়া ও সময়ের গুরুত্ব

নামাজ প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 'নিশ্চয় সালাত (নামাজ) মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।' (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩)। এটি শুধু একটি ইবাদতই নয়, বরং আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

পুরুষদের জন্য জামাতে নামাজের ফজিলত

পুরুষদের জন্য জামাতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'একাকী নামাজ পড়া অপেক্ষা জামাতে নামাজ আদায় করা ২৭ গুণ বেশি ফজিলতপূর্ণ।' (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৫)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) আরও ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি কাল (হাশরের ময়দানে) মুসলিম অবস্থায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে চায়, তার উচিত এই নামাজগুলো মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে আদায় করা...।' (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৮৬)।

নারীদের জামাতে নামাজের বিধান

পুরুষদের জন্য জামাতে নামাজের কঠোরতা থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান রয়েছে। ইসলামে নারীদের জামাতে নামাজ আদায়কে সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি উল্লেখযোগ্য হাদিস হলো:

হজরত আব্দুল্লাহ বিন সুয়াইদ আল আনসারী (রা.) তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, আবু হুমাইদ আস সায়িদীর স্ত্রী রাসুল (সা.) এর কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, নিশ্চয় আমি আপনার সঙ্গে নামাজ পড়তে পছন্দ করি।' তখন নবীজী (সা.) বললেন, 'আমি জেনেছি যে, তুমি আমার সঙ্গে নামাজ পড়তে পছন্দ করো। অথচ, তোমার একান্ত রুমে নামাজ পড়া উত্তম তোমার জন্য তোমার বসবাসের গৃহে নামাজ পড়ার চেয়ে। আর তোমার বসবাসের গৃহে নামাজ পড়া উত্তম তোমার বাড়িতে নামাজ পড়ার চেয়ে। আর তোমার বাড়িতে নামাজ পড়া উত্তম তোমার এলাকার মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে। আর তোমার এলাকার মসজিদে নামাজ পড়া উত্তম আমার মসজিদে (মসজিদে নববীতে) নামাজ পড়ার চেয়ে।'

তারপর তিনি আদেশ দিলেন তার গৃহের কোণে একটি রুম বানাতে এবং সেটিকে অন্ধকারচ্ছন্ন করে ফেললেন। সেখানেই তিনি নামাজ পড়তেন মৃত্যু পর্যন্ত। (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১৬৮৯)।

তবে এরপরও যদি কোনও নারী নামাজে শরিক হয়, তাহলে তার নামাজ সহিহ হবে এবং ওই নামাজ আবার পড়তে হবে না।

নারীর ইমামতি সম্পর্কে আলেমদের মতামত

নারীর ইমামতিতে অন্য নারীদের জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে ইসলামী আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু আলেম ইতিবাচক মত দিয়েছেন, তাদের দলিল হিসেবে রাসুল (সা.) উম্মে ওরাকাকে তার ঘরের লোকদের ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা আরও বলেন, এক্ষেত্রে পর-পুরুষ যদি নারী ইমামের কণ্ঠ না শোনে, তাহলে নারী ইমাম উচ্চস্বরে কিরাত পড়তে পারবে। (মুগনি: ২/২০২)।

অন্যদিকে, হানাফি মাজহাবের আলেমগণ নারীর ইমামতিকে মাকরুহে তাহরীমি আখ্যা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হজরত আলী (রা.)-এর বর্ণনা, তিনি বলেন, 'কোনও নারী যেন ইমামতি না করে।' (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, বর্ণনা : ৪৯৯৪)।

আরেক বর্ণনায় ইবনে আউন (রহ.) বলেন, 'আমি নাফে (রহ.) কে পত্রলিখে জিজ্ঞেস করলাম, কোনও নারী কি অন্য নারীদের ইমামতি করতে পারবে? উত্তরে নাফে (রহ.) বললেন, আমার জানামতে কোনও নারী অন্য নারীদের ইমামতি করতে পারবে না।' (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, বর্ণনা : ৪৯৯৫)।

নারীদের ইমামতির হুকুম ফরজ ও নফল উভয় নামাজে একই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (ফাতহুল কাদির : ১/৩০৬, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৩৮৭)।