সুন্দরবনের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন
সুন্দরবনের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা প্রদর্শনী শুরু

সুন্দরবনের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন

রাজধানীর ব্রিটিশ কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে শুরু হয়েছে 'সুন্দরবনস অ্যাক্রোস বর্ডারস: দ্য স্পিরিট অব কালচারাল রেজিলিয়েন্স' শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীটি সুন্দরবনের সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঐতিহ্য এবং জলবায়ু সহনশীলতার গল্প নিয়ে আয়োজিত হয়েছে। উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে ইউনিক ক্লাস্টার বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন, যেখানে সহযোগিতায় আছে বুয়েটের 'হেরিটেইনস ডিওএ', রিভারাইন পিপল ও টিম প্ল্যাটফর্ম।

প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ

গতকাল রোববার আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল 'দ্য হাইভ অ্যান্ড দ্য হিম' শীর্ষক প্রদর্শনী। এতে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে বসবাসকারী মৌয়াল ও বাওয়ালি সম্প্রদায়ের যাপিত জীবন এবং তাদের বিশ্বাস-আচারের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে:

  • ঐতিহ্যবাহী গাজীর পট
  • মধু সংগ্রহের চক্র নিয়ে সমসাময়িক চিত্রায়ণ
  • বনবিবির 'মিথ' বা লোককাহিনি
  • স্থানীয় নারী ও শিশুদের আঁকা স্ক্রল পেইন্টিং

এছাড়াও, বুয়েটের হেরিটেজ অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্টিগ্রেশন সেল এবং রিভারাইন পিপলের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক গবেষণার নানা তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সুন্দরবনের মানুষের বসতি বিন্যাস এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা তুলে ধরেছে।

বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'সাংস্কৃতিক সম্পর্কই আমাদের কাজের মূল ভিত্তি। সুন্দরবনের এই সমৃদ্ধ ইতিহাস ও মানুষের সৃজনশীলতা আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।' ইউনিক ক্লাস্টার বাংলাদেশের সভাপতি ফ্র্যাঙ্ক ভের্নার উল্লেখ করেন যে, প্রথমবারের মতো সুন্দরবনকে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাধর্মী বই ও নিজস্ব শিল্পভাষায় নাগরিক শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী দিনে অতিথিরা প্রদর্শনী পরিদর্শনের পাশাপাশি সুন্দরবনের লোক-ঐতিহ্য নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র উপভোগ করেন। এরপর সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে আসা 'সাগরনদী নাট্যসংস্থা'র শিল্পীরা মঞ্চস্থ করেন বনবিবির পালা 'দুঃখের বনবাস'। ৮০ মিনিট ব্যাপ্তির এই পরিবেশনায় বনবিবির বীরত্ব ও সুন্দরবনের মানুষের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের আবহ তৈরি হয় অডিটোরিয়ামজুড়ে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আয়োজকেরা জানান, এই প্রকল্প মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত ছাড়িয়ে সুন্দরবনের যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত মেলবন্ধন রয়েছে, সেটিকেই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২৪ ফেব্রুয়ারি 'দ্য স্যালাইন কোয়েস্ট ফর হানি' নামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হবে, যেখানে মৌয়াল সম্প্রদায়ের নৃতাত্ত্বিক ও অভিযোজনমূলক জ্ঞান নথিভুক্ত করা হয়েছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে এই প্রদর্শনী চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে, যা সুন্দরবনের সাংস্কৃতিক ধারাকে আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করতে সহায়তা করবে।