ইফতারের ফজিলত ও দোয়া: রোজাদারের জন্য পরম আনন্দের মুহূর্ত
ইফতারের ফজিলত ও দোয়া: রোজাদারের আনন্দ

ইফতারের ফজিলত ও দোয়া: রোজাদারের জন্য পরম আনন্দের মুহূর্ত

সারা দিন রোজা রেখে সূর্যাস্তের পর পানি ও খাবার গ্রহণ করার নামই ইফতার। এই মুহূর্তটি প্রতিটি রোজাদারের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে ইফতারের সময়ের রয়েছে অসাধারণ ফজিলত ও মর্যাদা, যা হাদিস শরিফে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

ইফতারের সময় দোয়ার কবুল হওয়া

নবীজি (সা.) বলেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি খুশি-একটি ইফতারের সময়, অপরটি তার রবের সাক্ষাৎ লাভের সময়।’ (বুখারি, ১৯০৪)। ইফতারের আগে রোজাদারের দোয়া কবুল হয় বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৫২)।

ইফতারের আগের দোয়া

ইফতারের সময় যে দোয়া পড়তে হয়— সে সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সা.) যখন ইফতার করতেন, তখন বলতেন- ইফতারের আগের দোয়া আরবি ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ বাংলা উচ্চারণ: জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতাল্লাতিল উ’রুকু; ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ। এর অর্থ: (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৭)।

ইফতারের পরের দোয়া

ইফতারের করার সময় যে দোয়া পড়বেন আরবি بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন। এর অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিজের মাধ্যমে ইফতার করেছি। (মুআজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)।

ইফতারের এই বিশেষ দোয়াগুলো পড়া রোজাদারের জন্য সুন্নত এবং আধ্যাত্মিক উপকার বয়ে আনে। এটি শুধু খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের মুহূর্ত নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি সুযোগ।