মদিনা শরিফে জুমার খুতবা: পাপেই হারিয়ে যায় নেয়ামত ও বরকত
আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যেই মানুষ তার জীবন অতিবাহিত করে। শান্তি, নিরাপত্তা, সুস্থতা, রিজিক ও ইমান— সবই মহান রবের বিশেষ অনুগ্রহ। কিন্তু যখন মানুষ পাপাচার, অবিচার ও আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, তখন ধীরে ধীরে তার জীবন থেকে বরকত ও প্রশান্তি উঠে যেতে থাকে।
ইসলাম মানুষকে শুধু ইবাদতের শিক্ষা দেয় না; বরং একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নৈতিক সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনাও দেয়। মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আলী আল হুজায়ফি শুক্রবার (৮ মে) জুমার খুতবায় এ বিষয়টিকেই গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষের পাপাচার ও অবিচারই আল্লাহর নেয়ামত ও বরকত হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ।
মসজিদে নববীর খুতবায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
শুক্রবার (৮ মে) পবিত্র মদিনার মসজিদে নববীতে জুমার খুতবায় শায়খ আলী আল হুজায়ফি মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)–এর তথ্যমতে, তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এবং ইবাদত পালনের অন্যতম প্রধান শর্ত। কারণ জীবনের নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তি ছাড়া মানুষ সঠিকভাবে ইবাদত কিংবা স্বাভাবিক জীবন পরিচালনা করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। ইসলামি শরিয়ত আত্মিক ও শারীরিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
মক্কা-মদিনার প্রশান্তি আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত
খুতবায় শায়খ আলী আল হুজায়ফি বলেন, মহান আল্লাহ পবিত্র মক্কা ও মদিনায় আগত হজযাত্রী ও জিয়ারতকারীদের হৃদয়ে বিশেষ প্রশান্তি দান করেন। এই প্রশান্তির কারণেই তারা মনোযোগ ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ, তাওয়াফ, হজ ও অন্যান্য ইবাদত আদায় করতে সক্ষম হন। পবিত্র ভূমির নিরাপত্তা ও মর্যাদা সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— وَمَن دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا ‘আর যে এতে (পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে) প্রবেশ করে, সে নিরাপত্তা লাভ করে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৯৭)
পাপাচার নেয়ামত কেড়ে নেয়
মসজিদে নববীর খতিব সতর্ক করে বলেন, আল্লাহর নেয়ামত ধরে রাখতে হলে তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা জরুরি। কারণ মানুষের পাপাচার, জুলুম ও অন্যায় আচরণই বরকত ও শান্তি হারানোর অন্যতম কারণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ ‘তোমাদের ওপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদের নিজেদের কৃতকর্মের কারণেই আসে।’ (সুরা আশ শুরা: আয়াত ৩০) তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে নেক আমল বৃদ্ধি, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আখিরাতের জন্য পাথেয় সংগ্রহের আহ্বান জানান।
হজযাত্রীদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান
খুতবার শেষ অংশে শায়খ আলী আল হুজায়ফি হজযাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পবিত্র ভূমির শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। কারণ আল্লাহ তাআলা এ ভূমিকে নিরাপদ করেছেন। তাই এখানে ঝগড়া-বিবাদ, বিশৃঙ্খলা বা অন্যকে কষ্ট না দিয়ে বেশি বেশি ইবাদত, জিকির ও দোয়ায় সময় কাটানোই একজন মুমিনের প্রকৃত দায়িত্ব।
মানুষ যখন আল্লাহর আনুগত্যে থাকে, তখন তার জীবনে নেমে আসে শান্তি, বরকত ও প্রশান্তি। আর যখন গুনাহ, অবিচার ও অবাধ্যতা বেড়ে যায়, তখন ধীরে ধীরে নেয়ামত কমে যায় এবং হৃদয় অশান্ত হয়ে পড়ে।
মসজিদে নববীর এ খুতবা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— নিরাপত্তা, শান্তি ও ইমান আল্লাহর বড় নেয়ামত। তাই এসব নেয়ামত টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদেরকে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে, নেক আমল বাড়াতে হবে এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পাপ থেকে হেফাজত করুন, জীবনে বরকত দান করুন এবং শান্তি ও ইমানের ওপর অটল রাখুন। আমিন।



