ইসলামে মায়ের মর্যাদা: জান্নাত লাভের পথে মায়ের সেবা
ইসলামে মায়ের মর্যাদা: জান্নাতের পথে মায়ের সেবা

মানুষের জীবনে সবচেয়ে গভীর, সবচেয়ে নিঃস্বার্থ এবং সবচেয়ে নিরাপদ সম্পর্কের নাম মা। একজন মানুষ যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখে, তখন তার প্রথম আশ্রয়, প্রথম নিরাপত্তা এবং মমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন মা। ইসলাম এই পবিত্র সম্পর্কটিকে শুধু আবেগ বা পারিবারিক বন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি বরং তার মর্যাদাকে উন্নীত করেছে সম্মান, ইবাদত ও জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে।

মায়ের মর্যাদা কোরআনে

ইসলামে মা-বাবার প্রতি সদাচরণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে সেই তালিকায় মায়ের অবস্থান আরও উঁচুতে। কারণ একজন সন্তানের জন্ম, লালন-পালন এবং বেড়ে ওঠার পেছনে মায়ের কষ্ট ও ত্যাগের পরিমাণ অনেক বেশি। পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তাআলা মায়ের কষ্টের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। গর্ভধারণ থেকে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই মা অসীম ধৈর্য ও কষ্ট সহ্য করেন।

হাদিসে মায়ের অধিকার

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিসে মায়ের মর্যাদার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জানতে চান, ‘হে আল্লাহর রাসুল, মানুষের মধ্যে আমার কাছে সর্বোত্তম সেবা লাভের অধিকার কার?’ নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবারও জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি আবারও বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ চতুর্থবার জিজ্ঞাসার পর নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমার পিতার।’ (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম–এ বর্ণিত এই হাদিস ইসলামে মায়ের অধিকারের গুরুত্ব স্পষ্ট করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মায়ের সেবায় জান্নাত

ইসলাম শুধু মাকে সম্মান করার কথা বলেনি বরং তার সেবাকে জান্নাত লাভের পথ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ প্রসঙ্গে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে। হজরত মুআবিয়া ইবনে জাহিমা আসসালামি (রা.) রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার মা কি বেঁচে আছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। তখন রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকো, কেননা তার পায়ের নিচেই জান্নাত।’ (সুনানে নাসায়ি)। সুনানে নাসায়ি–এর এই বর্ণনা ইসলামে মায়ের সেবার গুরুত্ব কতটা গভীর, তা বুঝিয়ে দেয়।

মায়ের দোয়ার শক্তি

মায়ের দোয়াকেও ইসলাম অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করেছে। হাদিস অনুযায়ী, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়, যার মধ্যে প্রথমটি হলো সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৮) এমনকি মায়ের দিকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে তাকানোর মধ্যেও সওয়াব রেখেছে ইসলাম। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে ‘কবুল হজের’ সওয়াব দান করেন। (সুনানে বায়হাকি)

মায়ের প্রতি দায়িত্ব

আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় মানুষ মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও যত্নে অবহেলা করে। অথচ ইসলাম শিখিয়েছে, মায়ের সঙ্গে কোমল আচরণ করা, তার খোঁজ নেওয়া, কষ্ট না দেওয়া এবং বার্ধক্যে তার পাশে থাকা একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। কারণ মা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয় এবং আল্লাহর বিশেষ রহমতের প্রতীক। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে মায়ের অধিকার আদায় করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একজন মুমিনের ঈমান, মানবিকতা ও জান্নাত লাভের গুরুত্বপূর্ণ পথ।