ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রোমের ভ্যাটিকানে এই বৈঠকটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে উভয় পক্ষ ভ্যাটিকান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপট
এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোপের বিরুদ্ধে বারবার সমালোচনা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতভিন্নতার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন বিরোধী নীতি এবং ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের বিষয়ে পোপ লিও প্রকাশ্য সমালোচনা করে আসছেন। এর জেরে ট্রাম্প নজিরবিহীনভাবে পোপের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে যান, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের খ্রিস্টান নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বৈঠকের বিবরণ
প্রায় এক বছরের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে পোপের এটিই প্রথম বৈঠক। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে পোপ রুবিওকে 'মিস্টার সেক্রেটারি' বলে সম্বোধন করেন এবং রুবিও পোপকে শ্রদ্ধা জানান। বৈঠক শেষে পোপ রুবিওকে জলপাই কাঠের তৈরি একটি কলম উপহার দেন, যাকে তিনি 'শান্তির গাছ' বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, রুবিও পোপকে একটি ক্রিস্টাল ফুটবল উপহার দেন এবং রসিকতা করে বলেন, শিকাগোর বাসিন্দা পোপ বেসবল বেশি পছন্দ করলেও এটি তার জন্য শুভেচ্ছা স্মারক।
বিবৃতি ও প্রতিক্রিয়া
ভ্যাটিকানের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পোপ ও রুবিও বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করেছেন এবং শান্তির পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এই বৈঠককে ভ্যাটিকান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে 'শক্তিশালী' সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভ্যাটিকানে হলি সি'র মার্কিন দূতাবাস এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, পোপ লিও ও রুবিও পশ্চিম গোলার্ধে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।
পোপের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রথম পোপ নির্বাচিত হওয়া লিও শুরু থেকেই ইরানে যুদ্ধের কঠোর সমালোচক। ট্রাম্প মিথ্যা দাবি করে বলেছিলেন যে, পোপ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে পোপ এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানান, তিনি কেবল খ্রিস্টীয় শান্তির বার্তা প্রচার করছেন এবং গির্জার শিক্ষা অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্রকে তিনি অনৈতিক মনে করেন। এই বৈঠকটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মেরামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



