ওমরাহ আদায়ের পর ইহরাম থেকে বের হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মাথা ন্যাড়া করা (হালক) অথবা চুল ছোট করা (কসর)। তবে এই বিধান নিয়ে অনেকের মাঝেই দ্বিধা বা প্রশ্ন দেখা যায়। সম্প্রতি এ বিষয়ে এক ব্যক্তি দারুল উলুম দেওবন্দের দারুল ইফতায় প্রশ্ন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত রমজানে ওমরাহ পালনকালে তিনি মাথা ন্যাড়া করেছিলেন। এখন আবার ওমরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন— এই অবস্থায় কি পুনরায় মাথা ন্যাড়া করতে হবে, নাকি শুধু চুল ছোট করলেই যথেষ্ট হবে?
ফতোয়ার উত্তর
এই প্রশ্নের উত্তরে দারুল উলুম দেওবন্দের মুফতিগণ জানান, প্রতিবার ওমরাহ আদায়ের পর ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য মাথা ন্যাড়া করা বা চুল ছোট করা অপরিহার্য। এই আমল সম্পন্ন না করা পর্যন্ত ইহরামের বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। ফতোয়ায় আরও ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যদি কারও মাথার চুল আঙুলের এক কর (প্রায় এক ইঞ্চি) বা তার বেশি লম্বা হয়, তাহলে পুরো মাথার চুল ছোট করা বৈধ। এ ক্ষেত্রে কাঁচি বা মেশিন ব্যবহার করা যেতে পারে, যা শরীয়তের পরিভাষায় ‘কসর’ নামে পরিচিত।
চুল ছোট না থাকলে করণীয়
অন্যদিকে, যদি চুল এক কর পরিমাণের চেয়েও ছোট হয়, তাহলে শুধু ছোট করার সুযোগ থাকে না। সে ক্ষেত্রে মাথা সম্পূর্ণ ন্যাড়া করা আবশ্যক। হজ বা ওমরাহর এই প্রক্রিয়াকে ‘হালক’ বলা হয়, যা সাধারণত ক্ষুর বা ব্লেড দিয়ে সম্পন্ন করা হয়। দারুল ইফতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যাদের চুল প্রয়োজনীয় পরিমাণে লম্বা নয়, তাদের জন্য কাঁচি বা মেশিন দিয়ে সামান্য ছাঁটা যথেষ্ট হবে না। ইহরাম থেকে বের হওয়ার জন্য তাদের অবশ্যই মাথা ন্যাড়া করতে হবে।
বিশেষ নির্দেশনা
মুফতিগণ আরও উল্লেখ করেন, প্রতিবার ওমরাহ করার পর এই বিধান পালন করা আবশ্যক। আগের ওমরাহতে মাথা ন্যাড়া করা হলেও পরবর্তী ওমরাহতে আবারও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অর্থাৎ, প্রতিটি ওমরাহের জন্য আলাদাভাবে ইহরাম থেকে বের হওয়ার এই আমল সম্পন্ন করতে হবে।



