বজ্রপাতে কুরবানির পশু মারা গেলে কী করবেন? ইসলামিক বিধান
বজ্রপাতে কুরবানির পশু মারা গেলে কী করবেন?

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা যেমন বজ্রপাত, সড়ক দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারণে পশু মারা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এ অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে? ইসলামি শরিয়ত এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কুরবানি আদায় হবে কি?

ফিকহের বিধান অনুযায়ী, কেউ কুরবানির পশু কেনার পর যদি সেই পশু বজ্রপাত, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে মারা যায়, তাহলে সেই পশুর মাধ্যমে কুরবানি আদায় হবে না। কারণ কুরবানির মূল শর্ত হলো নির্ধারিত সময়ে জীবিত পশুকে শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা। দুর্ঘটনায় মৃত পশু কুরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়েখোলাসাতুল ফাতাওয়া-তে উল্লেখ রয়েছে, ‘কুরবানির পশু যদি মারা যায়, তাহলে তার দ্বারা কুরবানি আদায় হবে না। কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকলে নতুন পশু কিনে কুরবানি করতে হবে।’ (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, খোলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯)

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কার ওপর নতুন পশু কেনা ওয়াজিব?

১. যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব: যদি ব্যক্তি সামর্থ্যবান হন এবং তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তাহলে পশু মারা যাওয়ার পর তাকে নতুন আরেকটি পশু কিনে কুরবানি করতে হবে। কারণ ওয়াজিব ইবাদত কেবল পশু কেনার মাধ্যমে আদায় হয় না; বরং শরিয়তসম্মত জবাইয়ের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয়।

২. যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়: যদি কারো ওপর মূলত কুরবানি ওয়াজিব না থাকে, কিন্তু তিনি নফল কুরবানির নিয়তে পশু কিনে থাকেন এবং সেই পশু দুর্ঘটনায় মারা যায়, তাহলে তার ওপর নতুন পশু কেনা বাধ্যতামূলক নয়। কারণ তার ওপর আগে থেকেই কুরবানি ফরজ বা ওয়াজিব ছিল না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুরবানির গুরুত্ব ও সতর্কতা

মহান আল্লাহ তাআলা কুরবানিকে নামাজের সঙ্গে উল্লেখ করে এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন— ‘অতএব আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।’ (সুরা আল-কাওসার: আয়াত ২)

সুলুল্লাহ (সা.) কুরবানির সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— ‘যার কুরবানি করার সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে কুরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।’ (ইবনে মাজাহ ৩১২৩)

কাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব?

মুসলমান নারী-পুরুষ নির্বিশেষে, যার কাছে জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে নিত্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়।

কুরবানির পশু বজ্রপাতে বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় মারা গেলে সেই পশুর মাধ্যমে কুরবানি আদায় হবে না। যদি ব্যক্তি সামর্থ্যবান হন এবং তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তাহলে নতুন পশু কিনে কুরবানি করতে হবে। তবে যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়, তাদের জন্য নতুন পশু কেনা বাধ্যতামূলক নয়। ইসলাম আমাদেরকে শুধু ইবাদতের নির্দেশই দেয়নি; বরং সঠিক পদ্ধতিতে ইবাদত আদায়ের শিক্ষাও দিয়েছে। তাই কুরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে শরিয়তের বিধান জানা ও সে অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহভাবে কুরবানি আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।