বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপালের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা হলেই যে নামটি বারবার ফিরে আসে, তিনি মেহর জেসিয়া। আজকের প্রজন্মের অনেকেই তাঁকে শুধু অর্জুনের সাবেক স্ত্রী হিসেবে চিনলেও নব্বইয়ের দশকের আগে থেকেই তিনি ভারতের ফ্যাশনজগতের অন্যতম বড় তারকা ছিলেন। মডেলিং, ক্রীড়া ও পরবর্তী সময় চলচ্চিত্র প্রযোজনায় নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন মেহর।
মিস ইন্ডিয়া থেকে সুপারমডেল
১৯৮৬ সালে ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’ খেতাব জিতে জাতীয় আলোচনায় আসেন মেহর জেসিয়া। একই বছর তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায়। সেই সময় ভারতের মডেলিং–শিল্প বিকাশের পথে ছিল। মেহর জেসিয়া, মধু সাপ্রে, ফেরোজ গুজরাল, শ্যামোলি ভার্মাদের মতো মডেলরা আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশনজগতে ভারতের অবস্থান তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মেহর দ্রুতই হয়ে ওঠেন দেশের প্রথম সারির সুপারমডেলদের একজন। বিভিন্ন জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ, বিজ্ঞাপন ও র্যাম্প শোতে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি ছিল।
খেলাধুলায়ও ছিলেন সমান সফল
অনেকেই জানেন না, মডেলিংয়ে আসার আগে মেহরের আগ্রহ ছিল খেলাধুলায়। তিনি একজন জাতীয় পর্যায়ের স্নুকার চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। পাশাপাশি রাজ্য পর্যায়ে ব্যাডমিন্টনও খেলেছেন। সাঁতারেও তাঁর দক্ষতা ছিল উল্লেখযোগ্য। খেলাধুলার সেই শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসই পরবর্তী সময় তাঁকে মডেলিংয়ের জগতে সফল হতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন অনেকে।
অর্জুন রামপালের সঙ্গে পরিচয় ও সংসার
মেহর ও অর্জুন—দুজনেরই ক্যারিয়ারের শুরু মডেলিংয়ের জগতে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম। ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। তখন অর্জুন রামপালের বয়স মাত্র ২৪ বছর। বিয়ের পর দীর্ঘদিন মেহর ও অর্জুন বলিউডের অন্যতম আলোচিত ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান—মাহিকা ও মাইরা।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক একসঙ্গে থাকার পরও মেহর ও অর্জুনের সম্পর্ক ভেঙে যায়। ২০১৮ সালে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত জানান তাঁরা।
বিচ্ছেদের ঘোষণা
বিচ্ছেদের সময় প্রকাশিত বিবৃতিতে মেহর ও অর্জুন লিখেছিলেন, ২০ বছরের সুন্দর যাত্রা শেষে তাঁরা জীবনের ভিন্ন পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সন্তানদের জন্য ও পারস্পরিক সম্মানের কারণে সম্পর্কের বন্ধন অটুট থাকবে বলেও জানিয়েছিলেন। বিবৃতিতে মেহর ও অর্জুন স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সম্পর্ক শেষ হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে যায়।
কেন ভাঙল সম্পর্ক
মেহর ও অর্জুন কেউই প্রকাশ্যে বিচ্ছেদের নির্দিষ্ট কারণ জানাননি। তবে সে সময় ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেহর ও অর্জুনের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছিল। আবার কোথাও বলা হয়, অর্জুন রামপালের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তৈরি হওয়া নানা গুঞ্জন সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। তবে এসব তথ্যের অনেকটাই ছিল সংবাদমাধ্যমের দাবি, সংশ্লিষ্টরা কখনো প্রকাশ্যে সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেননি।
মডেলিং ছেড়ে প্রযোজনায়
বিয়ের পর ধীরে ধীরে মডেলিং থেকে সরে আসেন মেহর। এরপর চলচ্চিত্র প্রযোজনার দিকে মন দেন। ২০০৬ সালে অর্জুন রামপালের সঙ্গে যৌথভাবে ‘চেজিং গণেশা’ ব্যানারের অধীনে ‘আই সি ইউ’ চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অর্জুন রামপাল, বিপাশা আগরওয়াল, সোনালি কুলকার্নি ও বোমান ইরানি। যদিও প্রযোজক হিসেবে মেহরের কাজের সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবু বিনোদন অঙ্গনের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেননি।
এখন কোথায় আছেন মেহর
বিচ্ছেদের পর মেহর জেসিয়া অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন। তিনি সচরাচর গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন না এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও পছন্দ করেন না। বর্তমানে মেহর মূলত ব্যবসা, পরিবার ও ব্যক্তিগত কাজ নিয়েই ব্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর উপস্থিতি খুব সীমিত। তবে ভারতীয় ফ্যাশনের ইতিহাসে মেহর জেসিয়ার নাম এখনো বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। কারণ, তিনি শুধু একজন বিউটি কুইন বা মডেল ছিলেন না, তিনি ছিলেন সেই প্রজন্মের মুখ, যাঁরা ভারতীয় মডেলিং–শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তুলেছিলেন।
ইন্ডিয়া ডটকম অবলম্বনে



