মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের বর্ণমালা বাঁচানোর গল্প নিয়ে নাটক 'আমার বর্ণমালা'
মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের বর্ণমালা বাঁচানোর গল্প নিয়ে নাটক

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের বর্ণমালা বাঁচানোর গল্প নিয়ে নাটক 'আমার বর্ণমালা'

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীর নির্মম হামলায় পরিবার হারানো ওহাব মাস্টারের জীবনসংগ্রামের মর্মস্পর্শী গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক 'আমার বর্ণমালা'। ১৯৭১ সালে এক রাতে রাজাকাররা ওহাবের বাড়িতে অতর্কিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিলে, তার বাবা ছোট্ট ওহাবের হাতে একটি বর্ণমালার বই তুলে দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, 'বাবা তুই আমার বর্ণমালাকে বাঁচা'। সেই মুহূর্তে ওহাব বইটি হাতে নিয়ে দৌড়ে বের হতে পারলেও, তার বাবা-মা চোখের সামনেই আগুনে পুড়ে মারা যান।

বর্ণমালার উত্তরাধিকার

ওহাব মাস্টার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সেই ট্র্যাজেডির পর থেকে তার বাবার দেয়া 'আমার বর্ণমালা' বইটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। এই বইটি শুধু একটি শিক্ষার মাধ্যমই নয়, বরং পরিবারের স্মৃতি ও ভাষার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ওহাবের এই সংগ্রাম ও ত্যাগের গল্পই নাটকের মূল উপজীব্য, যা দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করার জন্য প্রস্তুত।

নাটকের নির্মাণ ও প্রচার

সীমান্ত সজলের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত এই নাটকে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, মৌসুমী হামিদসহ আরও অনেক শিল্পী। নির্মাতারা জানিয়েছেন, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্যকে সম্মান জানিয়ে এই নাটকটি তৈরি করা হয়েছে। নাটকটি ২১শে ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় মাছরাঙা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে, যা দর্শকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় ও আবেগপূর্ণ অভিজ্ঞতা বয়ে আনবে।

এই নাটক শুধু বিনোদন নয়, বরং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে জীবন্ত করে তোলার প্রচেষ্টা। ওহাব মাস্টারের গল্প আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কিভাবে ভাষা ও শিক্ষা সংগ্রামের মাধ্যমে একটি জাতি তার পরিচয় রক্ষা করে। মাতৃভাষার মর্যাদা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে 'আমার বর্ণমালা' নাটকটি দর্শকদের কাছে একটি অনবদ্য উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে।