ডিভোর্স আমি দিয়েছিলাম: ডলি সায়ন্তনীর জবাবে রবি চৌধুরীর পরকীয়া অভিযোগ
ডিভোর্স আমি দিয়েছিলাম: ডলির জবাবে রবির অভিযোগ

ডিভোর্স আমি দিয়েছিলাম: ডলি সায়ন্তনীর জবাবে রবি চৌধুরীর পরকীয়া অভিযোগ

সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী ও ডলি সায়ন্তনীর বিচ্ছেদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে রবি চৌধুরী তার সাবেক স্ত্রী ডলি সায়ন্তনীর বিরুদ্ধে বিপ্লব নামে এক ড্রাইভারের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই পরকীয়াই তাদের সংসার ভাঙার মূল কারণ ছিল।

রবি চৌধুরীর অভিযোগের বিবরণ

রবি চৌধুরী পডকাস্টে জানান, কোরিয়ায় থাকাকালীন বিপ্লব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়, যিনি তাদের গাড়ি চালাতেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ডলি সায়ন্তনী পরবর্তীতে সেই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। রবির মতে, ডলির ফোনে একটি নম্বর 'দুলাভাই' নামে সেভ করা ছিল, যা তার সন্দেহের সৃষ্টি করে।

সন্দেহ মজবুত হলে তিনি ডলির বড় ভাই বাদশা বুলবুলকে ডেকে নম্বরটি যাচাই করান। তখন দেখা যায়, ওই নামে তাদের কোনো দুলাভাই নেই। রবি দাবি করেন, এই প্রমাণ পাওয়ার পরই তিনি ডলিকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডলি মিডিয়ার কাছে বিপ্লবকে তার 'ভাগিনা' হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডলি সায়ন্তনীর জবাব ও দাবি

বুধবার (৪ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে ডলি সায়ন্তনী রবি চৌধুরীর অভিযোগের জবাব দেন। তিনি লেখেন, 'সম্প্রতি আমাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'

ডলি আরও স্পষ্ট করে বলেন, 'ডিভোর্স আমি দিয়েছিলাম। কেন দিয়েছিলাম সেটি এই মুহূর্তে আর বলতে চাই না।' তিনি ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা আলোচনার বিষয় না বানানোর অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, 'আমাদের নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের মতো আছি, বাকিটা সময়ের হাতে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে ডলি উল্লেখ করেন, ডিভোর্স দেওয়ার পরই তিনি প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত বলেছিলেন। তাই এত বছর পর এসব নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

বিতর্কের পটভূমি ও সাম্প্রতিকতা

রবি চৌধুরী ও ডলি সায়ন্তনী দীর্ঘদিন ধরে সংগীতশিল্পী দম্পতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের বিচ্ছেদের পর উভয়েই নীরব ছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি পডকাস্টে রবির বক্তব্যে বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। রবি তার বক্তব্যে আরও দাবি করেন, বিচ্ছেদের কয়েক মাস পর ডলি বিপ্লবের বাড়ি 'ফুলজানি' গ্রামে গিয়েছিলেন, যা সংবাদের শিরোনাম হয়েছিল।

ডলি সায়ন্তনী তার ফেসবুক পোস্টে সম্মান ও আইনের প্রতি আস্থা রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলেছেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিতর্কে যেতে না চাওয়ার পাশাপাশি মাহে রমজানে পবিত্রতা রক্ষার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

এই ঘটনা সংগীত জগত ও বিনোদন মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রবি চৌধুরীর অভিযোগ ও ডলি সায়ন্তনীর জবাবে সামাজিক মাধ্যমেও নানা মতামত প্রকাশিত হচ্ছে। উভয় পক্ষের বক্তব্যে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে, যা দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।