একুশে পদকে ভূষিত আইয়ুব বাচ্চু ও ওয়ারফেজ, রক সংগীতের জন্য গর্বের দিন
একুশে পদকে আইয়ুব বাচ্চু ও ওয়ারফেজ, রক সংগীতের গর্ব

একুশে পদকে সম্মানিত আইয়ুব বাচ্চু ও ওয়ারফেজ, রক সংগীতে নতুন মাইলফলক

বাংলা রক সংগীতের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হলো এবারের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান। মরণোত্তরভাবে এই সম্মাননা পেয়েছেন এলআরবি ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর পক্ষে পদক গ্রহণ করেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। একইসঙ্গে, প্রথমবারের মতো একুশে পদক অর্জন করেছে জনপ্রিয় হার্ড রক ব্যান্ড ওয়ারফেজ, যার মাধ্যমে বাংলা রক সংগীত পেল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

ইমতিয়াজ বর্ষণের অভিনন্দন ও মূল্যায়ন

ছোট পর্দার অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসে এই অর্জনকে বাংলা রক সংগীতের জন্য বিশেষ গর্বের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলা রক মিউজিকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল, যা এবার পূরণ হয়েছে। বর্ষণ লিখেছেন, এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা, গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু বাংলা রককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, ওয়ারফেজের পদক প্রাপ্তি বাংলা হার্ড রকের জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও উপদেষ্টার ভূমিকা

ইমতিয়াজ বর্ষণ রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতির জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিশেষভাবে তিনি সদ্য বিদায়ী সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর অবদানকে স্মরণ করে লিখেছেন, এই স্বীকৃতি আদায়ে ফারুকী ভাইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁর মতে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ব্যান্ডসংগীত যে ঋদ্ধতা অর্জন করেছে, তাতে অসংখ্য সুরকার, গিটারিস্ট ও ড্রামারের অবদান রয়েছে, এবং এই সম্মাননা তাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও শুভসূচনা

বর্ষণ আরও উল্লেখ করেন যে বাংলা সংগীতজগতের ঋদ্ধতার প্রধান অংশীদার হলো বাংলা রক ব্যান্ড মিউজিক। বিশ্ব সংগীতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই ধারা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এখন থেকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যান্ড মিউজিকের তারকারাও এগিয়ে থাকবেন, এবং ২০২৬ সালের একুশে পদক এর শুভসূচনা হিসেবে কাজ করবে। এই পদক প্রদান বাংলা রক সংগীতের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা, যা ভবিষ্যতে আরও সম্মাননার পথ সুগম করবে।