বাংলাদেশের কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথমবারের মতো নির্মিত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ মাইক্রো ড্রামা সিরিজ ‘সিলভার সাদিয়া’। মোবাইল-ফার্স্ট দর্শকদের কথা মাথায় রেখে নির্মিত এই সিরিজটি তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ ভার্টিক্যাল ফরম্যাটে, যেখানে প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য মাত্র তিন মিনিট। নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট দেখার অভ্যাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এটি।
বিশেষ ভার্টিক্যাল স্ক্রিনিং
সম্প্রতি রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজন করা হয় সিরিজটির বিশেষ ভার্টিক্যাল স্ক্রিনিং। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যমকর্মী, মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির পেশাজীবী, আমন্ত্রিত অতিথি ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
নির্মাণ ও প্রযোজনা
সিরিজটি প্রযোজনা করেছে ‘মায়ের দোয়া স্টুডিওস’। পরিচালনা করেছেন মিরাজ হোসেন। সিরিজটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদিয়া আয়মান, অ্যালেন শুভ্র, ফারজানা ছবি এবং কামরুজ্জামান তপু। এছাড়াও একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্যা ছোট ভাই–কে।
গল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
এ প্রসঙ্গে নির্মাতা জানান, ‘সিলভার সাদিয়া’র গল্পে উঠে এসেছে এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মাদ্রাসাপড়ুয়া তরুণীর জীবন, যার ভেতরে গোপনে বেড়ে ওঠে গেমিংয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা। মায়ের নীরব সমর্থনে সে ইউটিউবে লাইভস্ট্রিমিং শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তৈরি করে নিজস্ব দর্শকগোষ্ঠী। কিন্তু একসময় সেই গোপন সত্য বাবার সামনে প্রকাশ পেলে শুরু হয় বাবা-মেয়ের মুখোমুখি অবস্থান। পরিবার, দূরত্ব এবং নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার গল্প নিয়েই এগিয়ে যায় সিরিজটি।
সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া
ছোট পরিসরে গল্প বলার এই নতুন প্রয়াসকে বাংলাদেশের ডিজিটাল বিনোদন অঙ্গনের সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সহ-প্রযোজক ও সিরিজটির ক্রিয়েটর পুলক অনিল বলেন, “একেবারে নতুন একটি ধারণা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ এসেছে। সীমাবদ্ধতা ছিল, ভুলত্রুটিও ছিল, কিন্তু এই যাত্রা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো কাজ করতে চাই।” সিরিজটির ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার আদনান আল রাজীব বলেন, “এটি ছিল ভীষণ রোমাঞ্চকর এবং ব্যতিক্রমী একটি কাজ। এই ফরম্যাটের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা আছে, এবং ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও অনেক গল্প জন্ম নিতে পারে।”



