দেশে আপনার প্রথম সিনেমা মুক্তি পেল। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটা দেখেছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তানজিয়া জামান মিথিলা বলেন, সিনেমা হলে তিন-চারবার গিয়েছি। দেখেছি, যখন আমি পর্দায় আসি, অনেক চিৎকার করছে। কেউ কেউ শিস বাজিয়েছে। ওই সময় মনে পড়ছিল মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার সময়ের কথা—তখন অবশ্য বাংলাদেশের কেউ ছিল না, যারা আমি মঞ্চে থাকতে বাংলাদেশ বলে চিৎকার করত। যতক্ষণ পর্দায় ছিলাম, দর্শক উচ্ছ্বসিত ছিল; মনে হয়েছে এটা অনেক প্রাপ্তি।
শাকিব খানের সঙ্গে প্রথম কাজ
শাকিবের সঙ্গে প্রথমবার কাজ সম্পর্কে মিথিলা বলেন, প্রথম দিন তো অনেক ভয়ে ছিলাম, যেহেতু তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। তিনি এত অভিজ্ঞ একজন শিল্পী, দেশের সবচেয়ে বড় তারকা। তাই শুটিংয়ের আগে প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, শুটিং ঠিকঠাক করতে পারব তো, অভিনয় ঠিকভাবে করতে পারব তো—এসব বিষয়ে বেশি চিন্তিত ছিলাম। তবে শাকিব ভাই এত বড় শিল্পী হয়েও মাটির মানুষ, দেখা হতেই পুরো পরিবেশটা এমন করে তোলেন, মনে হয় অনেক চেনা আমরা। তাই শেষ পর্যন্ত কাজটা সুন্দর হয়েছে।
তিন পরিচয়ে বদলে যাওয়া
‘রোহিঙ্গা’ ছবিতে বলিউডে কাজ, মিস ইউনিভার্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং ঢালিউডে নায়িকা হিসেবে অভিষেক—এই তিন পরিচয়ের মধ্যে কোনটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি বদলে দিয়েছে? মিথিলা বলেন, তিনটি কাজই আমাকে আলাদা আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। ‘রোহিঙ্গা’ দিয়ে বলিউডের সিনেমায় অভিষেক। সুন্দরী প্রতিযোগিতা আমাকে মিস বাংলাদেশ টাইটেল দিয়েছে। অনেককে বলতে শুনি, আমাদের মধ্যে একতা নেই। কিন্তু গত বছর মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার সময় দেখেছি, সারা দেশের মানুষ আমাকে ভালোবেসেছে, ভোটও দিয়েছে। এরপর এবার শাকিব খানের মতো দেশের সবচেয়ে বড় তারকার সঙ্গে অভিনয় করলাম, এটা আমাকে অনেক বেশি মানুষের কাছে নিয়ে গেছে। এটা এখন পর্যন্ত বড় হয়ে থাকবে।
সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে অভিনয়ে সাফল্য
সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে অভিনয়ে এসে অনেকে সফল হতে পারেন না—এমন ধারণা সম্পর্কে মিথিলা বলেন, এটা অনেকেই বলে। তবে আমি বলব যে এটা মোটেও সত্যি কথা নয়। বলিউডের ঐশ্বরিয়া রাই কিন্তু সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে এসেছেন। আরেকজনের কথা বলব, যিনি বলিউড থেকে হলিউডে গিয়েও সফল হয়েছেন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনিও কিন্তু সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে এসেছেন, সফল হয়েছেন। এর বাইরে সুস্মিতা সেন, লারা দত্ত, দিয়া মির্জা সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে সফলতা পেয়েছেন। তাঁরা সুন্দরী হলেও অভিনয় দিয়ে মানুষের মন জিতেছেন। আমি সুন্দরী প্রতিযোগিতা দিয়ে শুরু করলেও অভিনয়ে এখন মনোযোগী।
গুরুত্বপূর্ণ কী—বক্স অফিস, সমালোচক, নাকি দর্শক?
নতুন নায়িকা হিসেবে আপনার কাছে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ—বক্স অফিসের সাফল্য, সমালোচকদের প্রশংসা, নাকি দর্শকের ভালোবাসা? মিথিলা বলেন, দর্শকের ভালোবাসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দর্শকের ভালোবাসা না পেলে তারকার জীবনে সাফল্য আসে না। দর্শকের ভালোবাসা থাকলে সমালোচকদের প্রশংসা আর বক্স অফিসের সাফল্য আসবেই।
সৌন্দর্য কি অভিনয়প্রতিভাকে আড়াল করে?
আপনি কি মনে করেন, আপনার সৌন্দর্য ও গ্ল্যামার কখনো কখনো আপনার অভিনয়প্রতিভাকে আড়াল করে ফেলে? মিথিলা বলেন, শুধু সৌন্দর্য ও গ্ল্যামার আমার অভিনয়ের পরিচয়কে এগিয়ে নিতে পারবে না। কারণ, আমার কাছে মনে হয়, একজন মানুষ যদি সুন্দর হয়, এই সুন্দরের সঙ্গে অভিনয়ের প্রতিভা থাকে, তাহলেই তার বাড়তি শক্তি থাকে। সেই বাড়তি শক্তি যদি দুই ক্ষেত্রে কাজ করে, তাহলে বলব মানুষটা ভাগ্যবান।
১০ বছর পরের পরিচয়
১০ বছর পর যখন নিজের ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকাবেন, তখন মানুষ আপনাকে কী পরিচয়ে মনে রাখবেন—মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক মডেল, নাকি সফল অভিনেত্রী? মিথিলা বলেন, তিনটা পরিচয়ই চাই। এই তিনটা হয়ে ওঠার পেছনেই আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি মডেলিং থেকে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ হয়েছি। তারপর নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি। এসব জার্নিতে অনেক ওঠানামা আছে। কষ্টের গল্পও আছে। ভালোবাসার গল্পও আছে। তবে আমি একজন সফল অভিনেত্রী হয়ে বেঁচে থাকতে চাই।



