দক্ষিণী সিনেমার তারকা কাজল আগরওয়ালের জন্মদিন আজ
দক্ষিণী সিনেমার তারকা কাজল আগরওয়ালের জন্মদিন

দুই দশকের বেশি সময় ধরে তামিল ও তেলেগু সিনেমায় নিজের অবস্থান ধরে রাখা এই অভিনেত্রীর জীবন কেবল সাফল্যের গল্প নয়; এতে আছে সংগ্রাম, বিতর্ক, প্রেমের গুঞ্জন, আবার ফিরে আসার এক অনন্য গল্প। আজ ১৯ জুন, ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল আগরওয়ালের জন্মদিন। এ উপলক্ষে আলো ফেলা যাক তার জীবন ও ক্যারিয়ারে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। জানা যায়, মাতৃত্বের স্বাদ নিতে গিয়ে কাজ থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। তার পুত্রসন্তানের বয়স এখন চার বছর। মা হওয়ার পর তার জীবনের রুটিন পুরোপুরি বদলে গেছে। স্বামী-সন্তান, সংসার সামলেও অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করছেন কাজল।

শুরুটা ছিল সাধারণ

২০০৪ সালে হিন্দি ছবি ‘কিউ! হো গায়া না...’-এর মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে কাজলের। ছবির প্রধান চরিত্রে ছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই ও বিবেক ওবেরয়। কাজলের ভূমিকা ছিল খুবই ছোট। দর্শকদের অধিকাংশই তাকে খেয়াল করেননি। অনেকের জন্য এমন অভিষেক হতাশার কারণ হতে পারতো। কিন্তু কাজল বুঝেছিলেন, বড় সুযোগ এক দিনে আসে না। ছোট পদক্ষেপ থেকেই শুরু করতে হয়। তবে বলিউড তখন কাজলের জন্য প্রস্তুত ছিল না। বড় ব্যানারের ছবিতে সুযোগ মিলছিল না। নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার রাস্তা কঠিন হয়ে উঠছিল। ঠিক তখনই তার জীবনে আসে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা।

‘মাগাধীরা’ দিয়ে আলোচনায়

প্রত্যেক তারকার জীবনে একটি টার্নিং পয়েন্ট থাকে। কাজল আগরওয়ালের ক্ষেত্রে সেই ছবির নাম ‘মাগাধীরা’। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি পরিচালনা করেন এস এস রাজামৌলি। নায়ক ছিলেন রামচরণ। পুনর্জন্মের কাহিনি নিয়ে নির্মিত ছবিটি মুক্তির পর দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় এক নতুন যুগের সূচনা করে। ছবিতে রাজকুমারী মিত্রাবিন্দার চরিত্রে কাজলের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। তার সৌন্দর্য, পর্দায় উপস্থিতি এবং আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা নতুনভাবে আলোচনায় আসে। ‘মাগাধীরা’ শুধু একটি হিট ছবি ছিল না, এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা। ছবিটি বহু বছরের বক্স অফিস রেকর্ড ভেঙে দেয়। রাতারাতি কাজল দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন অভিনেত্রীদের একজন হয়ে ওঠেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জানা-অজানা কাজল

১৯৮৫ সালের ১৯ জুন ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন কাজল আগরওয়াল। তার পরিবার মূলত পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত। বাবা বিনয় আগরওয়াল ছিলেন ব্যবসায়ী এবং মা সুমন আগরওয়াল ছিলেন একজন কনফেকশনারি উদ্যোক্তা। পরিবারের পরিবেশ ছিল আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব। মুম্বাইয়ের সেন্ট অ্যানস হাইস্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি জয় হিন্দ কলেজ এবং পরে কে সি কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ ছিল ফ্যাশন ও মিডিয়ার প্রতি। অনেকেই ভাবতেন, তিনি হয়তো বিজ্ঞাপন বা মার্কেটিং জগতে ক্যারিয়ার গড়বেন। কিন্তু ভাগ্য তাকে নিয়ে যায় অভিনয়ের জগতে। তখন বলিউডে নতুন মুখের ভিড়। প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণী অডিশন দিচ্ছেন। তাঁদের অধিকাংশই হারিয়ে যাচ্ছেন কয়েক বছরের মধ্যে। কাজলও ছিলেন সেই অসংখ্য স্বপ্নবাজের একজন।

একের পর এক সুপারহিট

‘মাগাধীরা’র পর শুরু হয় কাজলের সোনালি অধ্যায়। তিনি অভিনয় করেন ‘ডার্লিং’, ‘মিস্টার পারফেক্ট’, ‘বৃন্দাবনম’, ‘বিজনেসম্যান’, ‘বাদশাহ’, ‘টেম্পার’, ‘কয়েদি নম্বর ১৫০’, ‘সরদার গাব্বার সিং’, ‘জিলা’, ‘থুপ্পাক্কি’, ‘মার্সাল’সহ অসংখ্য আলোচিত ছবিতে। দক্ষিণ ভারতের প্রায় সব বড় তারকার বিপরীতে তাঁকে দেখা গেছে। প্রভাসের সঙ্গে কাজলের জুটি ছিল দর্শকদের অন্যতম পছন্দের। ‘ডার্লিং’ ও ‘মিস্টার পারফেক্ট’ আজও ভক্তদের কাছে জনপ্রিয়। মহেশ বাবুর সঙ্গে ‘বিজনেসম্যান’ ছবিতে তার রসায়ন প্রশংসিত হয়। জুনিয়র এনটিআরের সঙ্গে ‘বৃন্দাবনম’ ও ‘বাদশাহ’ তাঁকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তামিল সিনেমায় বিজয়ের সঙ্গে তার জুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ‘থুপ্পাক্কি’ ও ‘মার্সাল’-দুটি ছবিই বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়।

বলিউডে প্রত্যাবর্তন

দক্ষিণে তারকাখ্যাতি অর্জনের পর কাজল আবার বলিউডে ফেরেন। ২০১১ সালে মুক্তি পায় ‘সিংহাম’। ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন অজয় দেবগন। রোহিত শেঠি পরিচালিত ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে। ভারতজুড়ে দর্শকরা প্রথমবারের মতো কাজল আগরওয়ালকে বড় পরিসরে চিনতে শুরু করেন। পরে ‘স্পেশাল ২৬’ ছবিতেও অভিনয় করেন কাজল। তবে বলিউডে নিয়মিত ক্যারিয়ার গড়ার পরিবর্তে দক্ষিণি চলচ্চিত্রেই বেশি মনোযোগ দেন। অনেকের মতে, এটি ছিল কাজলের সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্তগুলোর একটি। কারণ, দক্ষিণে তিনি ছিলেন প্রধান নায়িকা আর বলিউডে তাকে নতুন করে প্রতিযোগিতায় নামতে হতো।

সম্পদের পরিমাণ

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন কাজল আগরওয়াল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮-১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যেটি ৯৫-১২০ কোটি টাকার সমান। মুম্বাইয়ে কাজলের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া একাধিক দামি গাড়ি, ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকেও নিয়মিত আয় করেন তিনি। তবে সহকর্মীরা বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে কাজল আশ্চর্য রকমের সাধারণ। আড়ম্বরের চেয়ে পরিবার ও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়

২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর প্রেমিক গৌতম কিসলুকে বিয়ে করেন কাজল। বিয়ের পর এই অভিনেত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন অনেকবার চাউর হয়। তবে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরটি জানান। একই বছরের ১৯ এপ্রিল পুত্রসন্তানের জন্ম দেন কাজল। ছেলের নাম রেখেছেন নীল কিচলু। কাজলের হাতে এখন পাঁচটি সিনেমার কাজ রয়েছে। এগুলো হলো-হিন্দি ভাষার ‘দি ইন্ডিয়ান স্টোরি’, ‘রামায়ণ-১’, ‘রামায়ণ-২’, তামিল ভাষার ‘ইন্ডিয়ান থ্রি’ ও ‘এনবিকে ১১১’।