ক্রাউন সিমেন্টের ‘অভিজ্ঞতার আলোয়’ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আনিসুল হকের সঞ্চালনায় পথিকৃৎ নাট্যজন মামুনুর রশীদ তার শৈশব, মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও নাট্যচর্চার নানা দিক তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়ার কারণ চে গুয়েভারার জন্ম সেখানে। ম্যারাডোনা ও আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্কৃতিতে উজ্জ্বল নাম। তিনি পেলেরও সমর্থক। ইরানের ফুটবল দলের প্রতি সমর্থনের কারণ হিসেবে তিনি নির্যাতিতের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেন।
শৈশব ও শিক্ষাজীবন
মামুনুর রশীদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের পাইকড়ায়, মাতুলালয়ে। তার বাবা হারুনুর রশীদ খান পোস্টমাস্টার ছিলেন এবং মা রোকেয়া খানম। বাবার পোস্টিংয়ের সুবাদে ময়মনসিংহের ফুলপুরে তার হাতেখড়ি। পরে টাঙ্গাইলের বল্লা করোনেশন হাই স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এসএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন।
নাট্যচর্চার শুরু
ছোটবেলায় যাত্রাপালা দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯৬৫ সালে ১৭ বছর বয়সে পলিটেকনিকে তার লেখা প্রথম নাটক ‘মহানগরীতে একদিন’ মঞ্চস্থ হয়। ১৯৬৮ সালে টেলিভিশনে নাটক লেখা শুরু করেন। শহীদুল্লা কায়সারের ‘সংশপ্তক’ নাট্যরূপ দিয়ে তিনি সবার প্রশংসা কুড়ান।
মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা
২৫শে মার্চ রাতে তিনি ঢাকায় আটকা পড়েন। পরে জিঞ্জিরা হয়ে শাইনপুকুরে যান। টাঙ্গাইলের গ্রামে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তা করেন। পরে কুমিল্লার সিঅ্যান্ডবি বর্ডার দিয়ে ভারতে গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে নাটক লেখেন।
গ্রুপ থিয়েটার ও আরণ্যক
১৯৭২ সালে দেশে ফিরে ‘আরণ্যক’ দল গঠন করে মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক মঞ্চস্থ করেন। এটি বাংলাদেশের প্রথম গ্রুপ থিয়েটার। পরে ‘ওরা কদম আলী’, ‘ওরা আছে বলেই’ ও ‘ইবলিশ’ ট্রিলজি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ
মামুনুর রশীদ বলেন, শাসকগোষ্ঠী ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা নষ্ট করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার স্কুল-কলেজে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে তিনি দুর্নীতি এড়ানোর সাবধানবাণী উচ্চারণ করেন।



