ছয় দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিমা গড়ছেন হরিপদ পাল, পেলেন আজীবন সম্মাননা
ছয় দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিমা গড়ছেন হরিপদ পাল

প্রতিমাশিল্পী হরিপদ পাল ছয় দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিমা গড়ছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করেছে। তার হাতের স্পর্শে তৈরি প্রতিমা দেশজুড়ে পরিচিত।

শুরুর গল্প

হরিপদ পালের পরিবারে প্রজন্ম ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ চলে আসছে। তিনি জানান, ‘এটা আমাদের বংশানুক্রমিক কাজ। ছোটবেলা থেকেই এই কাজের প্রতি নেশা, তারপর পেশা হয়ে গেল। আমার দাদু করেছেন, বাবা করেছেন, কাকা করেছেন। দেখতে দেখতেই মনের মধ্যে আগ্রহ জন্মে।’ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তিনি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

কাজের জায়গা ও প্রথম প্রতিমা

হরিপদ পাল প্রথমে নরসিংদীতে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে তার স্টুডিও। কালীমন্দির ট্রাস্টের মাধ্যমে জায়গা পেয়ে তিনি সেখানে স্টুডিও গড়ে তুলেছেন। প্রথম প্রতিমা তৈরির স্মৃতি তার মনে আছে। তিনি বলেন, ‘নরসিংদীর উত্তরকান্দাপাড়া বিপিণ দাসের বাড়িতে মা মনসার একটি পূজা হয়েছিল দুটি অংশে। সেখানেই প্রথম প্রতিমা গড়েছিলাম পূজার জন্য।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রযুক্তি ব্যবহার

আধুনিকতার ছোঁয়া প্রতিমাশিল্পেও লেগেছে। হরিপদ পাল জানান, ‘এখনো হাত দিয়েই প্রতিমা গড়ে তুলি। আধুনিকতার ছোঁয়া বলতে স্প্রে কালার। এটা আগে কেউ ব্যবহার করত না। দেখতে যেহেতু ভালো লাগে, তাই এটা কাজে লাগাতে শুরু করি।’

নকশার ভাবনা ও সম্মাননা

নকশার ভাবনা আসে আশপাশ থেকে। গ্রাহকেরাও এসে ডিজাইন দেখান। আজীবন সম্মাননা পাওয়ার পর তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। এ কাজের মাধ্যমে শিল্পকর্মকে যেন আরও উন্নত করতে পারি—এটাই আশা।’

পরবর্তী প্রজন্মের আগ্রহ

এই পেশায় মানুষের আগ্রহ সম্পর্কে হরিপদ পাল বলেন, ‘শিল্পকর্মে জোর করে কিছু করা যায় না। ভেতর থেকে আগ্রহ বোধ করলে, এই শিল্পের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলে তবেই পরবর্তী প্রজন্মকে উৎসাহী করে তোলা যাবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যৎ ভাবনা

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ কাজই করে যেতে চাই। এটা করেই জীবন পার করে দিতে চাই। লাভ–লোকসান নিয়ে কোনো দিন ভাবিনি। ভাবতেও চাই না কখনো।’