বগুড়ায় যমুনার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ১৫০ মিটার তীর নদীগর্ভে
বগুড়ায় যমুনার ভাঙনে ১৫০ মিটার তীর নদীগর্ভে

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। এ ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। এতে নদী তীরের মানুষরা আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। তারা ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন।

তিন দিনে ১৫০ মিটার তীর নদীগর্ভে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনা নদীর ভাঙনে প্রায় ৫৫ মিটার অংশের জিওব্যাগ ও টিউবসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়। সেখানে ভাঙন ঠেকাতে কয়েক দিন ধরেই বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ অবৈধ বালু উত্তোলন

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছর অক্টোবরে যমুনা নদীর হঠাৎ ভাঙনে ভূমিসহ ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এবং পানির প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্তে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। পরবর্তীতে ভাঙনকবলিত তীর ধরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলার মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১৯ জুন থেকে নতুন করে ভাঙন

তবে সম্প্রতি যমুনা নদীতে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১৯ জুন শুক্রবার থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি নদীপাড়ে আঘাত হানছে। এতে জিওব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষিত এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি। এ কারণে স্থানীয় লোকজনের মাঝে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদ সদস্যের নির্দেশে ভাঙনরোধে উদ্যোগ

এদিকে নদী ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে বালি ভর্তি জিওব্যাগ ও বিশেষ টিউব বস্তা ফেলার কাজ করছে। নদীর মাঝখান থেকে বিশেষ নৌকায় বালু এনে ৬ বর্গ মিটার সাইজের বিশেষ টিউব বস্তায় বালু ভরা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা নেই

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, ভাঙন শুরুর পরপরই ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বালুভর্তি এই বিশেষ টিউবগুলো নদীর ভাঙনরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ কারণে নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।