বলিউডের ফুটবলপাগল তারকাদের তালিকা: শাহরুখ থেকে রণবীর
বলিউডের ফুটবলপাগল তারকাদের তালিকা

বলিউডের সঙ্গে ক্রিকেটের যোগের কথা সবারই জানা। ভারতে ক্রিকেট আর সিনেমা—দুটোই জনপ্রিয়। তবে কেবল ক্রিকেট নয়, অনেক তারকাই ফুটবলের পাঁড় ভক্ত। কোনো কোনো তারকা তো ফুটবল ক্লাবেরই মালিক। বিশ্বকাপ এলেই এসব তারকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাক্ষাৎকার, এমনকি ব্যক্তিগত জীবনেও ফুটবল জায়গা করে নেয়। বিশ্বকাপের আবহে চলুন জেনে নেওয়া যাক বলিউডের সবচেয়ে ‘ফুটবলপাগল’ কয়েকজন তারকার গল্প।

শাহরুখ খান: ফুটবলকে বলেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর খেলা’

বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খান বহুবার বলেছেন, ফুটবল তাঁর অন্যতম প্রিয় খেলা। ক্রিকেটে আইপিএল দল থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ফুটবলের প্রতি বিশেষ দুর্বল। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সময় থেকে শুরু করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি ম্যাচ নিয়ে টুইট করেছেন। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের খেলা নিয়ে তাঁর আগ্রহ বরাবরই আলোচনায় এসেছে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে তিনি বলেছিলেন, লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখাটা হবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আবেগের মুহূর্ত। বিশ্বকাপের সময় শাহরুখ প্রায়ই রাত জেগে ম্যাচ দেখেন। তাঁর মতে, ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের সীমা মুছে যায়।

রণবীর কাপুর: বলিউডের সবচেয়ে বড় ফুটবল–ভক্ত?

ফুটবলপ্রীতির কথা উঠলে প্রথম সারিতেই থাকবে রণবীর কাপুরের নাম। তিনি শুধু দর্শক নন, নিয়মিত ফুটবল খেলেনও। রণবীরের সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির একনিষ্ঠ সমর্থক। বহুবার তিনি ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচ দেখতে ইংল্যান্ডে গেছেন। ক্লাবটির খেলোয়াড়দের সঙ্গেও তাঁর দেখা হয়েছে। বলিউডে ‘অল স্টার ফুটবল ক্লাব’-এর অন্যতম সক্রিয় সদস্য রণবীর। নিয়মিত চ্যারিটি ম্যাচে অংশ নেন। বিশ্বকাপ চলাকালে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল নিয়ে পোস্টের সংখ্যা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। ২০২২ সালে মেসির বিশ্বকাপ জয়ের পর রণবীর প্রকাশ্যে বলেন, তিনি ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিষেক বচ্চন: স্টেডিয়ামে গিয়ে সমর্থন জানান

অভিষেক বচ্চনের ফুটবলপ্রেম বহু পুরোনো। ইউরোপিয়ান ফুটবল ও বিশ্বকাপ—দুই ক্ষেত্রেই তিনি নিয়মিত অনুসারী। অভিষেক প্রায়ই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখতে বিদেশে যান। বহুবার তাঁকে বিশ্বকাপের ম্যাচ স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করতে দেখা গেছে। ফুটবল নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণও বেশ সমৃদ্ধ বলে মনে করেন ভক্তরা। ভারতে ফুটবলের প্রসারে কাজ করা বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গেও অভিষেক যুক্ত ছিলেন। তাঁর মতে, ভারতীয় তরুণদের মধ্যে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।

জন আব্রাহাম: ফুটবল উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা

জন আব্রাহাম শুধু ফুটবলপ্রেমী নন, ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে সরাসরি বিনিয়োগও করেছেন। ভারতীয় ফুটবলকে জনপ্রিয় করতে তিনি বহু উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একসময় তিনি ইন্ডিয়ান সুপার লিগের দল নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি ক্লাবের সহমালিক ছিলেন। জনের মতে, ফুটবল ভারতের ভবিষ্যতের খেলা হতে পারে। বিশ্বকাপ চলাকালে তিনি নিয়মিত ম্যাচ বিশ্লেষণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। জন আর্জেন্টিনা ও জার্মানির খেলার বড় ভক্ত হিসেবেও পরিচিত।

কার্তিক আরিয়ান: মেসির ভক্ত

নতুন প্রজন্মের তারকাদের মধ্যে কার্তিক আরিয়ানের ফুটবলপ্রীতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আরিয়ানকে সরাসরি স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ দেখতে দেখা যায়। ফাইনালের আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির প্রতি সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন। মেসির বিশ্বকাপ জয়ের পর কার্তিক লিখেছিলেন, ‘আজ ফুটবল জিতেছে।’ সেই পোস্ট ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

অর্জুন কাপুর: ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিবেদিত অনুসারী

অর্জুন কাপুরের ফুটবলজ্ঞান অনেক ক্রীড়া সাংবাদিককেও চমকে দিতে পারে। তিনি ইংলিশ ফুটবলের বড় অনুসারী। বিশ্বকাপের সময় শুধু ম্যাচ দেখাই নয়, দলগুলোর কৌশল, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং সম্ভাব্য ফলাফল নিয়েও আলোচনা করেন। বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচ দেখা তাঁর বিশ্বকাপ রুটিনের অন্যতম অংশ।

সিদ্ধার্থ মালহোত্রা: মাঠেও, দর্শকসারিতেও

সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলেন। বলিউডে আসার পরও সেই অভ্যাস ছাড়েননি। চ্যারিটি ম্যাচে তাঁকে নিয়মিত দেখা যায়। বিশ্বকাপের সময় তিনি বিভিন্ন দলের জার্সি পরে ছবি পোস্ট করেন এবং ম্যাচ নিয়ে মন্তব্য করেন। বন্ধুদের ভাষায়, শুটিং না থাকলে সিদ্ধার্থ প্রায় পুরো টুর্নামেন্টই অনুসরণ করেন।

টাইগার শ্রফ: রোনালদো অনুপ্রেরণা

টাইগার শ্রফের কাছে ফুটবল শুধু খেলা নয়, ফিটনেসেরও উৎস। তিনি বহুবার বলেছেন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাঁর অন্যতম অনুপ্রেরণা। রোনালদোর ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রম তাঁকে মুগ্ধ করে। বিশ্বকাপ চলাকালে টাইগার নিয়মিত রোনালদো ও পর্তুগালের ম্যাচ অনুসরণ করেন। অনেক সময় জিমে অনুশীলনের ভিডিওতেও ফুটবল–প্রসঙ্গ উঠে আসে।

অনন্যা পান্ডে ও সারা আলী খান: নতুন প্রজন্মের ফুটবল–উন্মাদনা

নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যেও ফুটবল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনন্যা পান্ডে ও সারা আলী খান—দুজনকেই বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ দেখতে দেখা গেছে। বিশ্বকাপের সময় তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের পছন্দের দল নিয়ে পোস্ট করেন। যদিও তাঁরা পেশাদার বিশ্লেষক নন, তবে ফুটবলকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করেন।

বলিউডের ‘অল স্টার ফুটবল ক্লাব’

বলিউডে ফুটবল উন্মাদনার সবচেয়ে বড় প্রতীক হলো ‘অল স্টার ফুটবল ক্লাব’। এই ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন রণবীর কাপুর, অভিষেক বচ্চন, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, অর্জুন কাপুর, কার্তিক আরিয়ানসহ অনেক তারকা। চ্যারিটির জন্য আয়োজিত ম্যাচগুলোতে হাজার হাজার দর্শক উপস্থিত হন। এসব ম্যাচ থেকে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন সামাজিক কাজে ব্যয় করা হয়। বলিউডের তারকারা মনে করেন, ফুটবল মানুষকে একত্র করে। তাই এই ক্লাব শুধু বিনোদনের নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতারও প্রতীক।

মেসি বনাম রোনালদো: বলিউডও বিভক্ত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিতর্ক—মেসি নাকি রোনালদো—বলিউডেও সমান জনপ্রিয়। মেসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত রণবীর কাপুর, কার্তিক আরিয়ানসহ অনেক তারকা। অন্যদিকে টাইগার শ্রফ ও আরও কয়েকজন তারকা প্রকাশ্যে রোনালদোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সময় বলিউডের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। কেউ মেসির জন্য প্রার্থনা করছিলেন, কেউ আবার রোনালদোর বিশ্বকাপ-বঞ্চনার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করছিলেন।

বিশ্বকাপ এলে কেন বদলে যায় বলিউড

বলিউডের তারকারা সাধারণত ব্যস্ত থাকেন শুটিং, প্রচারণা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই তাঁদের অনেকের সময়সূচি বদলে যায়। মধ্যরাতে ম্যাচ দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে ‘ওয়াচ পার্টি’, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্লেষণ, প্রিয় দলের জার্সি পরে ছবি তোলা—সব মিলিয়ে ফুটবল তাঁদের জীবনযাপনের অংশ হয়ে ওঠে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে।