তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) জার্নালিজম, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন (জেএমসি) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্রে নারী সুরক্ষা ও দেশীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে গল্পবলার ধরণ (কনসেপ্ট টু স্টোরি টেলিং)’ শীর্ষক এই কর্মশালাটি সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কবি নজরুল এডুপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার উদ্দেশ্য
চলচ্চিত্রে নারীর উপস্থাপন, নারী সুরক্ষা, দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে গল্প নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একাডেমিক ও পেশাগত পর্যায়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সভাপতি ও বিশেষ অতিথি
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জেএমসি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আফতাব হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিটিআই-এর প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।
প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষক লাবিব নাজমুছ ছাকিব। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিআইইউ’র ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন প্রফেসর ড. লিজা শারমিন, চলচ্চিত্র পরিচালক নার্গিস আক্তার এবং চিত্রনাট্যকার ও গবেষক সাদিয়া খালিদ ঋতি।
উপস্থাপিত প্রবন্ধে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস থেকে ‘রূপবান’, ‘সারেং বউ’, ‘গেরিলা’ এবং ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর মতো চলচ্চিত্রের উদাহরণ দিয়ে নারীর শক্তিশালী, সংগ্রামী ও মানবিক চরিত্রায়নের বিবর্তন তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রে নারীর প্রতি বিদ্যমান প্রথাগত স্টেরিওটাইপ বা গৎবাঁধা ধারণা ভাঙার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক
সভাপতির বক্তব্যে ড. আফতাব হোসেন বলেন, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতায় উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। এই ধরনের কর্মশালা তরুণদের সমাজসচেতন চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিসিটিআই-এর প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে বিসিটিআই নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি নারী সুরক্ষা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও দেশীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রফেসর ড. লিজা শারমিন নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে চলচ্চিত্রের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতানির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর জোর দেন।
চলচ্চিত্র পরিচালক নার্গিস আক্তার নারী চরিত্রকে আরও বাস্তব ও বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প এবং নির্মাণ প্রক্রিয়া— উভয় ক্ষেত্রেই নারী সুরক্ষা ও মর্যাদার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
চিত্রনাট্যকার ও গবেষক সাদিয়া খালিদ ঋতি দেশীয় সংস্কৃতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং নারীর অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী চলচ্চিত্রের মূল ভিত্তি বা গল্প নির্মাণের কৌশল আলোচনা করেন।
মুক্ত আলোচনা
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিয়ে তাদের মতামত ও প্রশ্ন তুলে ধরেন।



