বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় আমির খানের মদের আসক্তি: প্রতি রাতে এক বোতল খেতেন বলিউড তারকা
বিচ্ছেদে আমির খানের মদের আসক্তি: প্রতি রাতে এক বোতল

বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় আমির খানের মদের আসক্তি: প্রতি রাতে এক বোতল খেতেন বলিউড তারকা

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা আমির খান ব্যক্তিগত জীবনের গভীর দুঃখজনক অধ্যায়ের কথা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে, প্রথম স্ত্রী রিনা দত্তের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি মারাত্মকভাবে মদে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

মদ্যপানমুক্ত জীবন থেকে আসক্তির দিকে

বরুণ দাসের সঙ্গে 'ডুওলগ' অনুষ্ঠানে আমির খান জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন। রিনা দত্তের সঙ্গে ডিভোর্সের আগ পর্যন্ত তিনি কখনোই মদ স্পর্শ করেননি বলেও উল্লেখ করেছেন এই অভিনেতা। শুটিংয়ের প্রয়োজনে মাঝে মাঝে সীমিত পরিমাণে মদ্যপান করলেও ব্যক্তিগত জীবনে এর কোনো স্থান ছিল না তার জন্য।

কিন্তু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায় যখন রিনা দত্ত তাদের সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। আমির খান বলেন, "সেই মুহূর্তে আমি একদম একা হয়ে পড়ি এবং আবেগগুলো সামলাতে পারছিলাম না। একাকিত্বের সেই কঠিন সময়ে আমি নিজেকে সামলাতে না পেরে মদকেই সঙ্গী করে নিই।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতি রাতে এক বোতল মদের অভ্যাস

পরিস্থিতির অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, আমির খান প্রতি রাতে প্রায় এক বোতল করে মদ শেষ করতেন। এই অভ্যাস তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল এবং মানসিক যন্ত্রণা থেকে সাময়িক মুক্তির উপায় হিসেবে তিনি মদের দিকেই ঝুঁকেছিলেন।

আমির খান তার জীবনের এই দুর্বল মুহূর্তগুলো ভক্তদের সামনে তুলে ধরতে কখনোই দ্বিধা করেননি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সেলিব্রিটিদেরও সাধারণ মানুষের মতোই মানসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং এই স্বীকারোক্তি অন্যান্যদের সাহস দিতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান জীবন ও সম্পর্ক

রিনা দত্ত ও পরবর্তী স্ত্রী কিরণ রাওয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ সত্ত্বেও আমির খান উভয়ের সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি এখন কাজ, পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে নতুন ভারসাম্য খুঁজে চলেছেন।

এই মহাতারকার স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, রুপালি পর্দার উজ্জ্বল তারকারাও মানসিক স্বাস্থ্যের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। আমির খানের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি নিঃসন্দেহে অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে যারা নিজেদের মানসিক সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছেন।

বলিউডের এই পরিপূর্ণবাদী তারকা তার জীবনের অন্ধকার অধ্যায় থেকে বেরিয়ে এসে এখন নতুনভাবে জীবনযাপন করছেন। তার এই যাত্রা শুধু বিনোদন জগতের জন্য নয়, বরং সমগ্র সমাজের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে আসছে।