ম্যাথিউ পেরির মৃত্যু মামলায় জাসভিন সাঙ্গার ১৫ বছরের কারাদণ্ড
জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ 'ফ্রেন্ডস'-এর চরিত্র চ্যান্ডলার বিং-এর জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করা অভিনেতা ম্যাথিউ পেরির মৃত্যু মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত জাসভিন সাঙ্গা নামের এক নারীকে মাদক সরবরাহের দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই মামলাটি হলিউডের মাদক নেটওয়ার্কের একটি অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে, যা একটি বিস্তৃত চক্রের অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ম্যাথিউ পেরির মৃত্যু এবং তদন্ত
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসভবন থেকে ম্যাথিউ পেরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় অতিরিক্ত কেটামিন সেবন, যা একটি শক্তিশালী অবৈধ মাদক। পেরি দীর্ঘদিন ধরে হতাশা ও মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করছিলেন, এবং তাঁর মৃত্যু হলিউডে মাদক সমস্যার তীব্রতা তুলে ধরে। মৃত্যুর পর তদন্তে উঠে আসে একটি জটিল মাদক চক্র, যেখানে চিকিৎসক ও সহকারীরাও জড়িত ছিলেন।
জাসভিন সাঙ্গার ভূমিকা এবং দোষ স্বীকার
জাসভিন সাঙ্গা, যিনি 'কেটামিন কুইন' নামে পরিচিত, হলিউডের ধনী ও তারকাদের কাছে মাদক সরবরাহের একটি বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর একটি গোপন ডেরা ছিল, যেখানে কোকেন, জ্যানেক্স, নকল অ্যাডারল পিল এবং কেটামিন সংরক্ষণ করা হতো। গত সেপ্টেম্বরে, তিনি পাঁচটি ফেডারেল অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন, যার মধ্যে একটি ছিল কেটামিন বিতরণ যা মৃত্যু বা শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। আদালতে শুনানির সময় সাঙ্গা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং নিজের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন, কিন্তু বিচারক উল্লেখ করেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুশোচনা দেখাননি এবং তাঁর অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
মাদক চক্রের বিস্তার এবং অন্যান্য অভিযুক্ত
মামলার নথি অনুযায়ী, ম্যাথিউ পেরি শুরুতে হতাশাজনিত সমস্যার চিকিৎসার জন্য বৈধভাবে কেটামিন ব্যবহার করতেন, কিন্তু পরে তিনি চিকিৎসকের নির্দেশনার চেয়ে বেশি পরিমাণে সেবন করতে চাইলে মাদক কারবারির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই কারবারি এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সাঙ্গার কাছ থেকে মাদক সরবরাহ করতেন, যা শেষ পর্যন্ত পেরির হাতে পৌঁছায়। মামলায় অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসকও রয়েছেন; ইতিমধ্যে দুই চিকিৎসক ও একজন সরবরাহকারী বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন, এবং বাকি দুজনের সাজা এখনো ঘোষণা হয়নি।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক প্রভাব
ম্যাথিউ পেরির পরিবার আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে। তাঁর সৎমা ডেবি পেরি বলেছেন যে এই ঘটনা তাঁদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে। এই মামলাটি শুধু একটি তারকার মৃত্যুই নয়, বরং হলিউডে মাদকের বিস্তার এবং এর বিপজ্জনক পরিণতির একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে। এটি সমাজে মাদকাসক্তি ও অবৈধ মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।



