নাগার্জুনা আক্কিনেনির শততম চলচ্চিত্র: চার দশকেও থামেনি অভিনয়ের যাত্রা
নাগার্জুনার শততম ছবি: চার দশকের অদম্য যাত্রা

নাগার্জুনা আক্কিনেনি: চার দশকের অভিনয় যাত্রায় শততম চলচ্চিত্রের মাইলফলক

মায়ের কোলে থাকা শিশুটি কে? ইনস্টাগ্রাম থেকে চার দশক পেরিয়েও তাঁর কণ্ঠে ক্লান্তি নেই, চোখে নেই থামার ইঙ্গিত। বরং নতুন করে শুরু করার মতোই এক উচ্ছ্বাস। তিনি আর কেউ নন, ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাগার্জুনা আক্কিনেনি। এই দক্ষিণি তারকা এখন দাঁড়িয়ে আছেন এক বিশেষ মাইলফলকের সামনে—তাঁর ক্যারিয়ারের শততম চলচ্চিত্র।

শুরুটা যেভাবে বদলে দিল সবকিছু

১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে মণি রত্নমের ‘গীতাঞ্জলি’ যেন তাঁর অভিনয়জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার আগে বেশ কিছু তেলেগু ছবি সফল হলেও ‘গীতাঞ্জলি’ই তাঁকে সত্যিকারের পরিচিতি এনে দেয়। এরপর রামগোপাল ভার্মার ‘শিবা’ সেই অবস্থানকে আরও পোক্ত করে। নাগার্জুন নিজেই বলেন, ওই সময় দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় নতুন কিছুর খোঁজে ছিল তরুণ প্রজন্ম। আর সেই পরিবর্তনের ঢেউয়ে তিনি ছিলেন ‘সৌভাগ্যবান প্রথম সারির’ একজন।

পারিবারিক উত্তরাধিকার, কিন্তু নিজস্ব পথ

তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা আক্কিনেনি নাগেশ্বরা রাওয়ের সন্তান। কিন্তু উত্তরাধিকারকে তিনি কখনোই সহজ প্রাপ্তি হিসেবে দেখেন না। তাঁর ভাষায়, ‘উত্তরাধিকার কাউকে দেওয়া যায় না, সেটা অর্জন করতে হয়।’ একই কথা তিনি নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রেও মনে করেন—নাগা চৈতন্য ও অখিল আক্কিনেনি—তাঁদেরও নিজেদের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যে ছবিগুলো তাঁকে বদলে দিয়েছে

নাগার্জুনার ক্যারিয়ারে কিছু ছবি শুধু সফল নয়, ব্যক্তিগতভাবেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। যেমন ‘অন্নমায়া’ ও ‘শ্রী রামাদাসু’। ভক্তিমূলক এই চলচ্চিত্রগুলো তাঁর মধ্যে একধরনের আধ্যাত্মিক পরিবর্তন এনে দেয়। নাগার্জুনা বলেন, ‘অন্নমায়া’ করার সময় পুরো ইউনিট যেন শুধু একটি ছবির জন্য নয়, ভক্তির জায়গা থেকে কাজ করছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল একধরনের আত্মিক জাগরণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিনেমা, সংস্কৃতি আর দর্শকের সম্পর্ক

বহু ভাষার সিনেমায় কাজ করে তাঁর একটি উপলব্ধি স্পষ্ট—দর্শক সব সময় নিজের সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে যুক্ত গল্পই বেশি গ্রহণ করেন। বিদেশি লোকেশন বা পাশ্চাত্য ধাঁচ সাময়িক আকর্ষণ তৈরি করতে পারে, কিন্তু স্থায়ী প্রভাব ফেলে না। দক্ষিণের তারকাপূজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দর্শকের আবেগ এখানে অনেক গভীর। তাঁরা তারকাদের সঙ্গে একধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনুভব করেন।

নতুন যুগ, নতুন প্রযুক্তি

সাম্প্রতিক সময়ে তেলেগু সিনেমার বিশ্বজোড়া সাফল্য—যেমন ‘আরআরআর’, ‘বাহুবলী’ বা ‘পুষ্পা’—নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা ভিন্ন। তাঁর মতে, এই গল্প বলার ধরন আগে থেকেই ছিল। নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির শক্তি, যা সেই স্বপ্নগুলোকে বড় পরিসরে তুলে ধরছে।

নতুন চরিত্র, নতুন পরীক্ষা

এই পর্যায়ে এসে তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান। ‘কুবেরা’-তে এক সাবেক সিবিআই কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করছেন, যেখানে দারিদ্র্য ও বিপুল সম্পদের দ্বন্দ্ব ফুটে উঠবে। এ ছাড়া ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ সিনেমায় ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেও কাজ করেছেন। তাঁর মতে, এখন তিনি শুধু নায়ক নন—ভিন্নধর্মী চরিত্রেও কাজ করতে আগ্রহী।

শততম ছবির চমক

নাগার্জুনার শততম ছবির কাজ ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৫ শতাংশ সম্পন্ন। আপাতত ছবিটির নাম ‘কিং ১০০’। পরিচালনায় রয়েছেন রা কার্থিক। ছবিটি হবে একটি বাণিজ্যিক ধাঁচের গল্প, যেখানে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক এবং দারিদ্র্য থেকে উঠে আসার কাহিনি থাকবে। এই ছবিতে ডি-এজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁকে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দেখানো হবে। অভিনয়ে থাকছেন টাবুসহ আরও অনেকে। তবে গল্পের বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে চান না তিনি। বড় আকারে উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে।

থামার কোনো ইচ্ছা নেই

অনেকে যেখানে ক্যারিয়ারের ‘পরবর্তী অধ্যায়’ নিয়ে ভাবেন, সেখানে নাগার্জুনের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাঁর স্পষ্ট কথা—‘কোনো নতুন অধ্যায় নয়। আমি কখনো এভাবে ভাবিনি।’ চার দশক পেরিয়েও তাঁর এই অদম্য মানসিকতাই যেন বলে দেয়—নাগার্জুনার জন্য সিনেমা এখনো শুধু পেশা নয়, এক অন্তহীন যাত্রা।