ক্যারিয়ারের শিখরে থেকেই বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত
বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মুমতাজ সত্তরের দশকে একের পর এক সফল সিনেমা দিয়ে যখন ক্যারিয়ারের শিখরে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই তিনি বিয়ে করে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের পেছনের গল্প তুলে ধরেছেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।
পরিবারের রক্ষণশীলতা ও বিয়ের সিদ্ধান্ত
‘তেরে মেরে স্বপনে’, ‘রোটি’সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবির মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন মুমতাজ। ১৯৭৪ সালে, ঠিক সেই সময়ে, তিনি ব্যবসায়ী ময়ূর মাধবানিকে বিয়ে করেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, ব্যক্তিগতভাবে তিনি আরও কিছুদিন কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবার ছিল রক্ষণশীল। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল—একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর মেয়েদের বিয়ে করে সংসারেই মন দেওয়া উচিত। পরিবারের ইচ্ছাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি অভিনয় ছেড়ে দেন।
মুমতাজ জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর পরিবারে মেয়েদের বিয়ে নিয়ে কঠোর ধারণা ছিল। মা–বাবার ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্বামী বিদেশে পড়াশোনা করতেন এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য ছিলেন। বিয়ের আগে স্বামী দুই বছর অপেক্ষা করেছিলেন, যাতে তিনি তাঁর চলমান সিনেমাগুলোর কাজ শেষ করতে পারেন। এমনকি কিছু ছবির সাইনিং অর্থও ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল তাঁকে।
শাম্মি কাপুরের বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শাম্মি কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। তিনি জানান, শাম্মি কাপুর তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন মুমতাজ। কারণ, কাপুর পরিবারে বিয়ের পর মেয়েদের অভিনয় করার অনুমতি ছিল না। মুমতাজ বলেন, তখন তিনি খুবই তরুণ ছিলেন এবং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে স্বপ্ন ছিল। তাই অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার শর্ত মেনে নিতে পারেননি।
সমাজের পরিবর্তন ও আন্তধর্মীয় সম্পর্ক
অভিনেত্রীর মতে, বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাঁর সময়ের পার্থক্য অনেক। এখন নারীরা নিজেদের মতামত প্রকাশে বেশি স্বাধীন। সম্পর্ক ও ভালোবাসার ক্ষেত্রেও খোলামেলা মনোভাব দেখা যায়। মুমতাজের শৈশব–কৈশোরে পরিবার ছিল অত্যন্ত রক্ষণশীল। একা বাইরে যাওয়া বা শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবারের সদস্যরা সব সময় সঙ্গে থাকতেন।
মুমতাজ তাঁর আন্তধর্মীয় বিয়ের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ধর্মের ভিন্নতা কখনোই তাঁদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাঁর মতে, মানুষে মানুষে সম্পর্কই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ধর্ম নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তগুলোকেও প্রভাবিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুমতাজের এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে বলিউডের স্বর্ণযুগের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে নারীর ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তাঁর সিদ্ধান্তগুলো আজও নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।



