ভূমি পেড়নেকরের অভিনয় দর্শন: ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি
ভূমি পেড়নেকর: ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই শিল্পীর শক্তি

ভূমি পেড়নেকরের অভিনয় দর্শন: ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি

বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেড়নেকর মনে করেন, ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও সেই সাহসটুকু ধরে রাখতে চান তিনি। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক আলাপচারিতায় নিজের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’, অভিনয়জীবনের পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

ছোট শহর থেকে জটিল চরিত্রের যাত্রা

অভিনয়জীবনের নতুন মোড় ছোট শহরের বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেই শুরুতে পরিচিতি পান ভূমি পেড়নেকর। ‘দম লাগা কে হ্যাঁয়সা’ ছবির সন্ধ্যা ভার্মা চরিত্র দিয়ে তাঁর অভিনয়যাত্রার সূচনা হয়। এরপর ‘বালা’, ‘আফওয়া’, ‘ভক্ষক’, ‘বাধাই দো’সহ একাধিক ছবিতে তাঁকে মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মেয়ের ভূমিকায় দেখা গেছে।

সেদিক থেকে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’ তাঁর ক্যারিয়ারে এনেছে ভিন্নমাত্রা। ভূমি এখানে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান কর্মকর্তা—ক্ষমতা, চাপ ও নৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত এক জটিল চরিত্রে অভিনয় করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘দলদল’ নিয়ে ভূমির অনুভূতি

ভূমি বলেন, ‘এটা আমার যাত্রার স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ বলেই মনে হয়েছে। আমি সব সময় এমন গল্পের দিকে ঝুঁকেছি, যেখানে সমাজ বা মানুষের আচরণকে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু দলদল মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকটা যেভাবে দেখিয়েছে, সে ধরনের কাজ আমি আগে করিনি।’

চরিত্রটি নিয়ে ভূমি আরও বলেন, ‘রীতা এমন একজন মানুষ, যে অমীমাংসিত ট্রমা ও নৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে নীরবতার মধ্যে বাস করে। সিরিজটির জগৎ অন্ধকার, অস্বস্তিকর এবং মানসিকভাবে খুব চ্যালেঞ্জিং। সেই অস্বস্তিই আমাকে এই প্রকল্পের প্রতি টেনেছে।’

তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমি এমন চরিত্র চাই, যারা সব কথা বলে না—দর্শকের ওপর ভরসা রাখে। যে চরিত্র আমাকে স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে নিয়ে গিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। “দলদল” ঠিক সেটাই করেছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বদল নয়, বিবর্তনের যাত্রা

ভূমি জানান, এখন কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ‘প্রথমে গল্প আমাকে অনুভূতির জায়গা থেকে টানে, তারপর ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই। এখন “সঠিক প্রকল্প” বলতে আমি বুঝি এমন কিছু, যা আমাকে চ্যালেঞ্জ করবে, একটু ভয়ও দেখাবে।’

তিনি বলেন, ‘একঘেয়ে বা আরামদায়ক চরিত্রে আর আগ্রহ নেই; বরং এমন পরিচালক ও লেখকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যাঁরা জটিলতা ও দ্ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দেন।’

প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারের দিকে তাকিয়ে ‘বদল’ নয়, ‘বিবর্তন’ শব্দটিকেই প্রাধান্য দেন ভূমি। তাঁর ভাষায়, ‘শুরুতে ছোট শহরের সাধারণ মেয়ের চরিত্রে পরিচিতি পেলেও এখন আমি এমন নারীর গল্প বলতে চাই, যারা সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে লড়াই করছে।’

ভূমি যোগ করেন, ‘চরিত্রের পরিসর বদলেছে, কিন্তু মানুষের গল্প জানার আগ্রহ একই আছে। আমার চরিত্রগুলো প্রায়ই এমন নারীদের নিয়ে, যারা সমাজ, শ্রেণি, লিঙ্গ ও নৈতিকতার কাঠামোর ভেতর নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে।’

গণ্ডি ভাঙার ইচ্ছা ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা

‘অর্থবহ সিনেমা’ও কখনো কখনো একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি তৈরি করতে পারে—এমনটাই মনে করেন ভূমি। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে বড় বাজেটের চমকপ্রদ সিনেমা এবং গভীর, সংবেদনশীল গল্প—দুটিই পাশাপাশি এগোচ্ছে। আমি এই দুই ধারাতেই কাজ করতে চাই।’

তবে একটি বিষয় ভূমি সব সময় ধরে রাখতে চান, ‘ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা’। তাঁর কথায়, ‘জটিল এবং সত্যনিষ্ঠ গল্প বেছে নেওয়ার সাহসটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সব সময় এমন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা সত্যিই কিছু বলতে চান।’

ভূমি পেড়নেকরের এই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁর অভিনয়যাত্রা ক্রমাগত বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। সাধারণ চরিত্র থেকে জটিল চরিত্রে উত্তরণের এই পথে ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই তাঁর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।