আসাদ ও মোনামীর ভাইরাল ছবি: এআই সম্পাদনার প্রমাণ মিলেছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া, যিনি মোনামী নামে পরিচিত, এবং জনপ্রিয় অভিনেতা আসাদুজ্জামান আসাদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকরিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে প্রকাশ, এই ছবিটি আসল নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সম্পাদনা করা হয়েছে।
ছবির উৎস ও এআই প্রযুক্তির ভূমিকা
সম্প্রতি Ahmed Nirjon BSL নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে ১৮ মার্চ প্রকাশিত একটি পোস্টে এই ছবির সন্ধান পাওয়া যায়। পোস্টের কমেন্টে আসাদের ফেসবুক প্রোফাইলের একটি লিংক ছিল, যেখানে একাধিক ছবি রয়েছে। আলোচিত ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড, দাঁড়ানোর ভঙ্গি এবং আনুষঙ্গিক উপাদানের সঙ্গে আসাদের মূল ছবির মিল থাকলেও পোশাকে ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।
ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গুগলের জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল জেমিনির তথ্য অনুযায়ী, ছবিটিতে সিন্থআইডি নামের একটি ডিজিটাল জলছাপ শনাক্ত হয়েছে। গুগল সাধারণত তাদের এআই টুল দিয়ে তৈরি বা জেনারেট করা কনটেন্টে এই ধরনের জলছাপ যুক্ত করে থাকে, যা এআই সম্পাদনার একটি শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আসাদ ও মোনামীর পরিচয় ও সম্পর্ক
অভিনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরার সামনে আছেন এবং সাত শতাধিক বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেছেন, পাশাপাশি কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রেও তার উপস্থিতি রয়েছে। তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেওয়া একটি বক্তব্যের মাধ্যমে বিশেষ আলোচনায় আসেন। অন্যদিকে, শেহরীন আমিন ভূঁইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।
প্রসঙ্গত, আসাদ ও মোনামী একজন অপরজনের কাজিন হিসেবে পরিচিত, যা তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই সম্পর্কের ভিত্তিতে ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পরেও, ফ্যাক্টচেক প্রমাণ করেছে যে ছবিটি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় পরিবর্তন করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ও ভুয়া তথ্যের প্রভাব
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও এআই সম্পাদনার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তুলে ধরেছে। ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং বানোয়াট কনটেন্ট প্রচারের মাধ্যমে জনমনে প্রভাব ফেলার প্রবণতা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সুতরাং, শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) ও আসাদুজ্জামান আসাদের প্রচারিত এই ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা ডিজিটাল যুগে সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।



