তামিল সুপারস্টার বিজয়ের রাজনৈতিক অভিষেক: দুই আসনে লড়ছেন, 'হুইসেল বিপ্লব' এর ডাক
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে রূপান্তরিত হওয়া তামিল সুপারস্টার বিজয় থালাপতি তার দল 'তামিলাগা ভেট্টি কাঝাগাম' (টিভিকে) এর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন। এই নির্বাচনে বিজয় নিজে দুটি আসন— পেরাম্বুর এবং ত্রিচি ইস্ট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যা বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে-র দখলে রয়েছে।
নির্বাচনী আহ্বান ও প্রতিশ্রুতি
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বিজয় তামিলনাড়ুর জনগণের কাছে টিভিকে-কে একবার সুযোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। দলের নির্বাচনী প্রতীক 'হুইসেল' এর কথা উল্লেখ করে তিনি এই নির্বাচনকে একটি 'হুইসেল বিপ্লব' হিসেবে অভিহিত করেন। ভোটারদের তিনি অনুরোধ করেন যেন তারা তাকে এবং তার দলের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করেন। বিজয় ডিএমকে-র কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তার দলের প্রার্থীরা সাধারণ পটভূমি থেকে আসা এবং তাদের কোনো দুর্নীতির অভিজ্ঞতা নেই। তিনি পরোক্ষভাবে ডিএমকে প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে 'জনগণের রক্ষক' হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী
বিজয়ের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে:
- মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু গঠন
- ২৯ বছর বয়সের পর বেকারদের জন্য মাসিক ভাতা
- সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন
দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে ভিএস বাবু কোলাথুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে লড়বেন। এছাড়া প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা সেলভামকে চিপাউক আসনে উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে। ভিলিভাক্কাম আসন থেকে লড়বেন দলের সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুন এবং গোবিচেটিপালায়ম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সেঙ্গোত্তাইয়ান।
নির্বাচনী পরিস্থিতি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
আগামী ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ু বিধানসভার ২৩৪টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে এবার পাঁচমুখী লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। একদিকে এআইএডিএমকে ও বিজেপির এনডিএ জোট পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া, অন্যদিকে বিজয়ের টিভিকে বড় ধরনের অভিষেকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া পিএমকে এবং শশীকলা প্রতিষ্ঠিত দলের চতুর্থ জোট এবং সীমানের নেতৃত্বাধীন এনটিকে এককভাবে লড়াই করছে। বিজয় এই নির্বাচনকে মূলত তার 'জনগণের জোট' এবং এমকে স্ট্যালিনের জোটের মধ্যে এক দ্বিমুখী লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন।
সব মিলিয়ে বিজয়ের এই রাজনৈতিক অভিষেক তামিলনাড়ুর নির্বাচনী সমীকরণকে এক নতুন ও আকর্ষণীয় মোড়ে দাঁড় করিয়েছে, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



