মাতৃত্বের পর বাঘিনীর মতো অনুভব করছেন কিয়ারা আদভানি, 'টক্সিক' ছবিতে প্রত্যাবর্তন
কিয়ারা আদভানির মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও 'টক্সিক' ছবিতে ফেরা

মাতৃত্বের পর বদলে গেছে জীবনদৃষ্টি, কিয়ারা আদভানির খোলামেলা স্বীকারোক্তি

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি সম্প্রতি মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ২০২৫ সালে স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রার ঔরসে কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকে তাঁর জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। প্রথম সন্তানের জন্মের পর নিজেকে তিনি এখন 'বাঘিনীর মতো' মনে করেন বলে জানিয়েছেন। কিছু সময় পরিবার ও নবজাতককে ঘিরে কাটানোর পর এবার তিনি আবারও অভিনয় জগতে ফিরছেন।

মা হওয়ার পর বাঘিনীর মতো সুরক্ষামূলক অনুভূতি

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কিয়ারা আদভানি বলেন, মা হওয়ার পর তাঁর জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, 'আমি এখন আরও সুরক্ষামূলক হয়ে উঠেছি। মনে হয়, আমি যেন এক বাঘিনী। জীবনকে এখন একেবারে ভিন্নভাবে দেখি—একদিকে মনে হয় কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়, আবার একই সঙ্গে সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।' অভিনেত্রী আরও জানান, সংসার ও সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে নিজের একটি ছোট্ট পৃথিবী তৈরি হয়েছে। তবে বিয়ের আগের মতোই স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্কের আনন্দ ও বন্ধুত্ব এখনো অটুট রয়েছে। সিনেমা দেখা, ভ্রমণ—সবই আগের মতো চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

'টক্সিক' ছবিতে বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন

মাতৃত্বের পর কিয়ারা আদভানির বড় প্রত্যাবর্তন হতে যাচ্ছে 'টক্সিক' ছবির মাধ্যমে। এই ছবিতে দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা যশের সঙ্গে অভিনয় করছেন তিনি। 'টক্সিক' ছবির মাধ্যমেই তাঁর তেলেগু সিনেমায় অভিষেক হতে যাচ্ছে। ছবিটির পরিচালক গীতু মোহনদাস কিয়ারার প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তিনি জানান, 'নাদিয়া' চরিত্রটির জন্য প্রথম থেকেই কিয়ারাই ছিলেন তাঁর একমাত্র পছন্দ। তাঁর মতে, কিয়ারার অভিনয়ে একসঙ্গে কোমলতা ও তীব্রতা—দুটি দিকই ফুটে ওঠে, যা চরিত্রটির জন্য অপরিহার্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চরিত্র নির্মাণে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও চ্যালেঞ্জ

পরিচালক গীতু মোহনদাস আরও বলেন, কিয়ারা শুধু নির্দেশনা অনুসরণ করেন না; বরং চরিত্র নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁর নিষ্ঠা প্রকাশ্য নয়, বরং নীরব, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং গভীর। 'টক্সিক' ছবির চরিত্রটি কিয়ারাকে শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে জানান পরিচালক। তাঁর ভাষায়, ক্যামেরার সামনে কিয়ারা শুধু অভিনয় করেননি, বরং চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন। একজন অভিনেত্রী যখন পুরোপুরি গল্পের ভেতরে ডুবে যান, তখনই তৈরি হয় সত্যিকারের সিনেমার জাদু।

মুক্তির তারিখ পিছিয়ে জুনে নির্ধারণ

প্রথমে 'টক্সিক' ছবিটি মার্চ মাসে মুক্তির কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে মুক্তির তারিখ পিছিয়ে জুন মাসে নেওয়া হয়েছে। এই সিনেমাটি কিয়ারা আদভানির ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে তেলেগু সিনেমায় তাঁর অভিষেকের মাধ্যমে।

কিয়ারা আদভানির মাতৃত্বের এই অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত ফিরে আসা বলিউড জগতে একটি অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের এই সমন্বয় অনেকের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।