শাহরুখ খানের ছেলের মাদক মামলায় ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার এনসিবি সাবেক কর্মকর্তার
বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানকে মাদক মামলা থেকে মুক্তি দিতে ২৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) সাবেক কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ে। সোমবার (২৩ মার্চ) মুম্বাই হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির সময় তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, শাহরুখ খানের কাছ থেকে তিনি কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ করেননি বা ঘুষের প্রস্তাব দেননি।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
২০২১ সালে মুম্বাইয়ের একটি প্রমোদতরি বা ক্রুজ শিপ থেকে মাদকসহ আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন এনসিবি কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ে। পরবর্তীতে সিবিআই (কেন্দ্রীয় অনুসন্ধান ব্যুরো) অভিযোগ করে যে, আরিয়ানকে মামলা থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি শাহরুখ খানের কাছে ২৫ কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন, যা পরে ১৮ কোটিতে রফা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ২০২৩ সালে সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সিবিআই।
আদালতে সমীর ওয়াংখেড়ের যুক্তি
আদালতের শুনানিতে সমীর ওয়াংখেড়ের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, এনসিবির কাছে আসা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই সেই রাতে ‘কর্ডেলিয়া’ ক্রুজে অভিযান চালানো হয়েছিল এবং আইন মেনেই আরিয়ানসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন যে, সিবিআইয়ের কাছে ঘুষ নেওয়ার কোনো যথাযথ প্রমাণ নেই এবং এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর ভিত্তিতে মামলাটি খারিজ করার আবেদনও জানান তিনি।
আরিয়ান খানের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই মামলায় আরিয়ান খানকে এক মাস জেলে কাটাতে হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে তিনি বলিউডে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন দিক নির্দেশ করছে। অন্যদিকে, সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতি মামলার শুনানি এখনো চলমান রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
এই ঘটনাটি ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছে, যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আচরণ ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শাহরুখ খানের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের পরিবার জড়িত থাকায় মামলাটি গণমাধ্যম ও জনগণের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।



