মেট্রোরেলে অভিনেতা হারুন রশিদের সঙ্গে আড্ডা: শুটিংয়ের যান্ত্রিক জীবন ও চরিত্রের সঙ্কট
মতিঝিল মেট্রোরেলে বসতেই পাশের সিটে চোখ পড়ে ছোট পর্দার পরিচিত অভিনেতা হারুন রশিদের দিকে। ভক্তদের কাছে ‘বান্টি’ নামে বেশি পরিচিত এই শিল্পী জানালেন, সকালেই শুটিংয়ে যাচ্ছেন তিনি। কারওয়ান বাজার পর্যন্ত মেট্রোর ৯ মিনিটের যাত্রায় জমে ওঠে তাঁর সঙ্গে আড্ডা, যেখানে উঠে আসে শিল্পীজীবনের নানা বাস্তবতা ও সাম্প্রতিক শুটিংয়ের চিত্র।
শুটিংয়ের গন্তব্য উত্তরায়, পরিচালক নাজমুল রনি
হারুন রশিদের আজকের শুটিংয়ের গন্তব্য উত্তরায়, ঈদ নাটকের পরিচালক নাজমুল রনি। সাড়ে ১০টার শিডিউলের জন্য সকাল সকাল ট্রেনে চেপে বসেছেন তিনি। রমজান মাস শুরু থেকে পার্শ্ব চরিত্রাভিনেতাদের কাজ কমছে নাকি বাড়ছে—এ প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ‘আমাদের কাজ খুব বেশি বাড়ে নাই। ঈদের জন্য কিছু কাজ বাড়ে, তাই মনে হচ্ছে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি খুব ভালো নয়।’ তবে তিনি জানান, প্রধান অভিনয়শিল্পীদের কাজ কিছুটা বেড়েছে।
গাজীপুরের পুবাইলে সবচেয়ে বেশি শুটিং
এই অভিনেতার সবচেয়ে বেশি শুটিং থাকে গাজীপুরের পুবাইলে। মোশাররফ করিম থেকে নিলয় আলমগীর—সবার সঙ্গেই ঈদের একাধিক নাটকে দেখা যাবে তাঁকে। হারুন বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গেই কাজ করি। পুবাইলের শুটিং বাড়ি দুটি ঈদের আগেই ভাড়া হয়ে যায়, কিন্তু এখন খালি দেখছি। শুটিং সেটে গেলে প্রকৃত তথ্য পাবেন, তখন বুঝবেন আমরা কেমন আছি।’
শুটিংয়ের যান্ত্রিক জীবন: লেট নাইট থেকে সকালের শিডিউল
শুটিং নিয়ে দিনকাল কেমন যাচ্ছে—জানতে চাইলে হারুন রশিদ বলেন, ‘গতকাল লেট নাইট শুটিং করেছি, বাসায় পৌঁছেছি তিনটায়। ঘুমাতে ঘুমাতে ৫টা বেজে গেছে। এখন সাড়ে নয়টায় আবার শুটিংয়ে যাচ্ছি। মেশিনের মতো কাজ করতে হয়—এক দৃশ্য শেষ হতে না হতেই পরের দৃশ্যের প্রস্তুতি।’
শুটিংয়ের সময়সীমা: দুই দিনে নাটক শেষ করার চাপ
সাম্প্রতিক সময়ে ঈদের নাটক ৪-৬ দিনে শুটিং করার কথা শোনা গেলেও হারুন ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ শুটিং ইউনিটের ব্যয় কমানোর জন্য এক থেকে দুই দিনেই নাটক শেষ করছেন। নিলয় আলমগীর চান তিন-চার দিনে শুটিং করতে, কিন্তু দুই দিনে করতে হয়। কারণ, বাড়তি দুই দিনে প্রযোজকের দুই লাখ টাকা বাড়তি খরচ।’
পার্শ্বচরিত্রাভিনেতাদের শুটিং: সব শেষে, গভীর রাতে
শুটিংয়ে প্রধানশিল্পীদের দৃশ্য আগে শেষ করা হয়, পরে শুরু হয় পার্শ্বচরিত্রাভিনেতাদের কাজ। হারুন মনঃক্ষুণ্ন হয়ে বলেন, ‘গভীর রাতে ফিরে আবার সকালে যেতে হয়। এই জীবনযাপনই এখন সিস্টেম হয়ে গেছে। শুটিং মানে এখন যান্ত্রিক জীবন।’
ভালো চরিত্রের অভাব: বাছবিচার না করে কাজ নেওয়া
দিনের বেশির ভাগ সময় শুটিং সেটে থাকলেও ভালো চরিত্রের অভাব খুব অনুভব করেন হারুন। তিনি বলেন, ‘এখন অভিনয় করে সন্তুষ্টির আশা করি না। জীবনযাপন চলানোর জন্য মাসে যে কয়দিন শুটিং করতে হয়, সেই হিসাবেই শিডিউল দিই। বাছবিচার করতে গেলে কাজ করতে পারব না। পছন্দের চরিত্র খুঁজতে গেলে জীবন জীবিকাই থেমে যাবে।’
গল্প চরিত্র বাছাই: ৩-৪টা দৃশ্য থেকে ১০টা দৃশ্য
গল্প চরিত্র কীভাবে বাছাই করেন—জানতে চাইলে হারুন বলেন, ‘আমাকে বলে ৩-৪টা দৃশ্য বা ১০টা দৃশ্য করতে হবে, আমি বলে দিই করব। নিয়মিত লেট নাইট করতে হয়, এ ছাড়া উপায় নাই। শিল্পী হিসেবে ভালো চরিত্র খুব মিস করি, চরিত্রই শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু বাস্তবতা এখন আলাদা।’
ছিনতাইয়ের ঘটনা ও ঈদের নাটক
গত বছর শুটিং শেষে ফেরার সময় কাঞ্চন ব্রিজের কাছে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন হারুন রশিদ, যা তাঁকে নতুন করে আলোচনায় আনে। এবার ঈদে ২০টির বেশি নাটকে দেখা যাবে তাঁকে, যা তাঁর ব্যস্ত শিডিউলেরই প্রতিফলন।
