দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের বিবাহবিচ্ছেদে ২৫০ কোটি রুপি খোরপোশের দাবি
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয় এবং তাঁর স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের মধ্যে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটছে। সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে অভিযোগ করেছেন যে, বিজয় এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এই ঘটনায় সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিজয় সংগীতাকে ২৫০ কোটি ভারতীয় রুপি খোরপোশ দিতে পারেন, যা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ মেটানোর পরিকল্পনার অংশ।
বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ
সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের করা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনপত্রের একটি কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আবেদনপত্রে সংগীতা দাবি করেছেন, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি বিজয়ের এক অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিজয় সম্পর্ক শেষ করার আশ্বাস দিলেও তা বজায় রাখেননি, যার ফলে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন।
এছাড়াও, আবেদনপত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংগীতা অভিযোগ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীর সঙ্গে বিজয়ের প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের কারণে তিনি ও তাঁদের সন্তানেরা অপমানিত বোধ করেছেন।
২৫০ কোটি রুপি খোরপোশের সম্ভাবনা
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়াগ্লিটজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, থালাপতি বিজয় পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ মেটাতে ২৫০ কোটি রুপি খোরপোশ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এই অর্থ সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম এবং তাঁদের দুই সন্তান—জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা শাশার জন্য বরাদ্দ থাকতে পারে। তবে, এই অঙ্ক বা সমঝোতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং অর্থের বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
দাম্পত্য জীবনের পটভূমি
থালাপতি বিজয় এবং সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সংগীতা একজন শ্রীলঙ্কান তামিল এবং লন্ডনভিত্তিক উদ্যোক্তার কন্যা। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের সংসারে তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। তাঁদের ছেলে জেসন সঞ্জয় শিগগিরই তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন, যা এই পরিবারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
এই বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে থালাপতি বিজয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার এই সংকটের মুখোমুখি হওয়ায় ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।



